উদ্দীপক অনুসারে শিমুলের সমস্যা দুটি হলো- দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া এবং রাতে দেখতে না পাওয়া বা রাতকানা রোগ। এই সমস্যা দুটির জন্য দায়ী ভিটামিন দুটি হলো যথাক্রমে ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-এ। নিচে শিমুলের সমস্যা নিরসনে এই ভিটামিন দুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
ভিটামিন-এ এর গুরুত্ব :
দৃষ্টিশক্তি রক্ষা : ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। শিমুল যেহেতু রাতে দেখতে পায় না, তাই তার শরীরে এই ভিটামিনের অভাব স্পষ্ট।
শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধি : এটি দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করে।
ত্বক ও কলার সুরক্ষা : দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক এবং চোখের কর্নিয়াকে সজীব ও স্বাভাবিক রাখতে এটি অপরিহার্য।
রোগ প্রতিরোধ : শরীরে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন-সি এর গুরুত্ব :
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা : ভিটামিন-সি দাঁত ও মাড়ি শক্ত রাখে এবং মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া বা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। শিমুলের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার মূল কারণ হলো তার শরীরে ভিটামিন-সি এর অভাব।
কোষীয় গঠন ও ক্ষত নিরাময় : এটি ত্বক, হাড় ও দাঁতের কোষসমূহকে পরস্পরের সাথে জোড়া লাগিয়ে শরীরে মজবুত গাঁথুনি তৈরি করে এবং শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
বিপাকীয় কাজ : শরীরে স্নেহ, আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকীয় কাজে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ও ত্বকের যত্ন : এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে।
উদ্দীপকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিমুল আপাতদৃষ্টিতে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মনে হলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাবে সে শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। তাই তার রাতকানা রোগ দূর করতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- কলিজা, মাছের তেল, গাজর, পাকা পেঁপে) এবং মাড়ির সমস্যা দূর করতে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ টক জাতীয় ফল (যেমন- লেবু, আমলকী, আমড়া) গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।