উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি সুস্থ রাখার উপায় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ এ অঙ্গটি কিছু নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ রাখা সম্ভব। সঠিক পরিমাণে সুষম খাবার ও পরিমিত আহারপ্রণালি ও জীবনপ্রণালি অনুসরণ করে হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখা যায়। এছাড়া দেহের উচ্চতা ও বয়স অনুসারে কাঙ্ক্ষিত ওজন বজায় রাখতে হবে। দেহের ওজন বৃদ্ধি পেলে হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন মিশ্রিত খাবার খেতে হবে। শর্করা, মিষ্টি ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। শাকসবজি ও আঁশ জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে। মাছ বেশি খেতে হবে। সামুদ্রিক মাছের তেল রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। ফলে খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ থাকা ভালো। ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা সুষম খাদ্যে যা আছে তাই গ্রহণ করতে হবে। খাবার লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। রসুন, তেঁতুল, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও অন্যান্য ফল নিয়মিত খেতে হবে। তাই আলোচনা হতে বলা যায়, নিয়মিত ও পরিমিত সুষম খাবার ও নিয়ন্ত্রিত জীবনপ্রণালিই পারে হৃদযন্ত্র নামক অঙ্গটিকে সুস্থ ও সচল রাখতে।
SSC বিজ্ঞান অধ্যায়-৩ : হৃদযন্ত্রের যত কথা এবং অন্যান্য CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বিজ্ঞান · অধ্যায়-৩ : হৃদযন্ত্রের যত কথা এবং অন্যান্য · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি সুস্থ রাখার উপায় ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
Barisal · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান ও বাম নিলয় বলে। এ প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের ফলেই হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের সংকোচন হলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনি পথে দেহের বিভিন্ন অংশে সঞ্চালিত হয়। আবার হৃৎপিণ্ডে যখন প্রসারণ ঘটে তখন দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্ত শিরা পথে হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে আবার হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয়। হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ অবস্থায় দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গ থেকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা, নিম্নাঙ্গ থেকে নিম্ন মহাশিরা পথে কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত প্রথমে ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। অপরপক্ষে ফুসফুসীয় শিরা ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত প্রথমে বাম অলিন্দে বহন করে নিয়ে আসে। বাম অলিন্দ থেকে বাম নিলয়ে ঐ রক্ত পরে প্রবেশ করে। নিলয়দ্বয় রক্তপূর্ণ হলে সংকুচিত হয় এবং নিলয়ে রক্তের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে অলিন্দ নিলয় কপাটিকা যথা দ্বিপত্রী ও ত্রিপত্রী কপাটিকা বন্ধ হয়ে যায় এবং অর্ধচন্দ্রাকৃতি কপাটিকাগুলো খুলে যায়। ফলে ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি পথে দূষিত রক্ত ফুসফুসে এবং বাম নিলয় থেকে বিশুদ্ধ রক্ত মহাধমনিতে প্রবেশ করে এবং দেহের বিভিন্ন অংশে চলে যায়। নিলয়দ্বয়ের সংকোচন অবস্থায় অলিন্দদ্বয়ের প্রসার ঘটে, ফলে রক্ত আবার অলিন্দে প্রবেশ করে।
এভাবে অলিন্দ ও নিলয়ের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালিত হয়।