উদ্দীপকের A হলো ফুসফুস এবং B হলো বৃক্ক। মূলত এই দুটি অঙ্গ মানবদেহে একই ধরনের কাজ করে থাকে। অর্থাৎ এই অঙ্গ দুটি দেহে বর্জ্য নিষ্কাশনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ফুসফুস ও বৃক্ক দেহের দুরকম বর্জ্য যথাক্রমে নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থ এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড নিষ্কাশন করে। নিচে এদের বর্জ্য নিষ্কাশনের কার্যকরী ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
খাদ্যের জারণ বিক্রিয়ায় কোষে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। এই কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে এবং লসিকা থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রধানত বাইকার্বনেট রূপে রক্ত সঞ্চলনের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে যেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাহিরে নির্গত হয়।
একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে। মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত পদার্থ থাকে। এগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক বা কিডনির অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক বা কিডানর ভিতরের নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে বৃক্কের পেলভিসে পৌঁছায় এবং পেলভিস থেকে ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ বেয়ে ইউরেটারে প্রবেশ করে। ইউরেটার থেকে মূত্র মূত্রথলিতে আসে এবং সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্র দিয়ে মূত্রথলি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণ হলে মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা জাগে এবং মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রপথে মূত্রনালির মাধ্যমে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে বৃক্ক বা কিডনি মানবদেহ থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেন জাতীয় পদার্থসহ বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণ করে।
তাই উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, মানবদেহে উদ্দীপকের A ও B অর্থাৎ ফুসফুস ও বৃক্কের কাজ মূলত একই ধরনের।