উদ্দীপকে উল্লিখিত ধান ক্ষেতের দ্বিতীয় প্রাণীটি বিলুপ্ত হলে খাদ্যশৃঙ্খলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত ধান ক্ষেতের দ্বিতীয় প্রাণীটি হলো ব্যাঙ। ব্যাঙ হলো দ্বিতীয় স্তরের খাদক। ব্যাঙের যদি বিলুপ্তি ঘটে, তবে খাদ্যশৃঙ্খলে যে ধরনের প্রভাব পড়বে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো— একটি পূর্ণবয়স্ক ব্যাঙ একদিনে তার ওজনের সমপরিমাণ পোকা-মাকড় খেতে পারে, যা উৎপাদকের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আর ব্যাঙ পোকামাকড় না খেলে অর্থাৎ ব্যাঙের বিলুপ্তি ঘটলে পোকামাকড় বেড়ে যাবে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণে উৎপাদক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাহলে পুরো খাদ্য শিকলের প্রাণীদের সংখ্যা প্রাথমিক অবস্থায় কমে যাবে এবং একসময় হারিয়ে যাবে। ফলে বাস্তুতন্ত্রে দেখা দিবে বিশৃঙ্খলা। এজন্য বাস্তুতন্ত্রের ২য় স্তরের খাদক ব্যাঙের মতো খাদ্য শিকলে বা খাদ্যজালের যেকোনো স্তরের খাদকের অবস্থান তাদের নিজ নিজ জায়গায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপর্যুক্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, খাদ্যশিকলটিতে ২য় স্তরের খাদক ব্যাঙের বিলুপ্তি ঘটলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।
SSC জীববিজ্ঞান অধ্যায়-১৩ : জীবের পরিবেশ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · জীববিজ্ঞান · অধ্যায়-১৩ : জীবের পরিবেশ · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধান ক্ষেতের দ্বিতীয় প্রাণীটি বিলুপ্ত হলে খাদ্যশৃঙ…
উদ্দীপক
Dhaka · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
এখানে অনেকগুলো খাদ্যশৃঙ্খল একত্রে যুক্ত হয়ে একটি খাদ্যজাল তৈরি করেছে।
বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহের ক্ষেত্রে খাদ্যজালের প্রভাব : সকল বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য। সবুজ ধান গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে নিজের দেহে সঞ্চিত করে। ধান গাছ (উৎপাদক) থেকে শক্তি ক্রমান্বয়ে ঘাসফড়িং, ব্যাঙ, সাপ, গুঁইসাপ, মাছ, মানুষ এবং সবশেষে ঈগল পাখির দেহে প্রবাহিত হয়। বাস্তুতন্ত্রে শক্তির এই প্রবাহ সর্বদা একমুখী হয়, অর্থাৎ ঈগল থেকে শক্তি কখনোই ধান গাছে ফিরে আসে না। লিন্ডম্যানের ১০% নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি ধাপ বা ট্রফিক লেভেলে মাত্র ১০% শক্তি পরবর্তী ধাপে স্থানান্তরিত হয়। বাকি ৯০% শক্তি বিপাকীয় কাজে ব্যয় হয় বা তাপ হিসেবে পরিবেশে হারিয়ে যায়। তাই খাদ্যজালের স্তর যত বাড়বে, শক্তির পরিমাণ তত কমবে। ফলে ধান গাছ থেকে ঈগল পাখি পর্যন্ত পৌঁছাতে শক্তির পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়। খাদ্যজালের কারণে শক্তির প্রবাহে একটি বিকল্প পথ তৈরি হয়।
উদাহরণস্বরূপ : যদি কোনো কারণে সাপ কমে যায়, তবে ঈগল পাখি ব্যাঙ বা গুঁইসাপ খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। এর ফলে শক্তির প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়ে বিকল্প পথে সচল থাকে, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। খাদ্যজালের মাধ্যমে শক্তির সুষম বণ্টন ঘটে, যা ধানক্ষেতের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।
উদ্দীপকের এই খাদ্যজালটি শক্তির নিরবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করে এবং ধান ক্ষেতের বাস্তুতন্ত্রকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।