উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' ভূমিরূপ দুটির গঠন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' ভূমিরূপটি হলো বদ্বীপ এবং 'গ' ভূমিরূপটি হলো ভিআকৃতির উপত্যকা। এদের গঠন বৈশিষ্ট্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: আমরা জানি নদী তিনটি অবস্থায় উপনীত হয়। তন্মধ্যে শেষের অবস্থা হলো বার্ধক্য অবস্থা। এ সময় নদীর গতিবেগ একেবারেই কম থাকে। ফলে নিম্নগতিতে স্রোতের বেগ কমে যায় এবং নদীর পানির সাথে মিশ্রিত শিলাচূর্ণ, বালি, কাদা প্রভৃতি তলানিরূপে সঞ্চিত হতে থাকে। নদীর মোহনায় সমুদ্রের লবণমিশ্রিত পানি এ তলানি পড়তে বিশেষভাবে সহায়তা করে। নদী যদি কোনো কম স্রোতবিশিষ্ট বা স্রোতহীন সমুদ্রে পড়ে, তাহলে ঐ সমস্ত তলানি নদীর মুখে জমতে জমতে নদীর মুখ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং কালক্রমে ঐ চর সমুদ্রের পানি সমতলের উপরে উঁচু হয়ে ওঠে। তখন নদী বিভিন্ন শাখায় ঐ চরকে বেষ্টন করে সমুদ্রে পতিত হয়। তখন এটি দেখতে ত্রিকোণাকার গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (△) বা বাংলা মাত্রাহীন 'ব'-এর মতো দেখায়। যা বদ্বীপ সমভূমি নামে পরিচিত। বাংলাদেশ নামক বদ্বীপ সমভূমিও এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের শিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন থাকে। সেখানে নদীর স্রোতের গতিবেগও বেশি। ফলে এ অবস্থায় নদী পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় তলদেশের ক্ষয়সাধন অধিক হয়। এ সময় পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্যভাগ অধিক ক্ষয় হতে হতে কালক্রমে ইংরেজি 'V [গণিত] অক্ষরের ন্যায় রূপধারণ করে। এজন্য এ ধরনের উপত্যকাকে 'V [গণিত] আকৃতির উপত্যকা বলে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পার্শ্বদিকের ক্ষয়ের পরিমাণ বেশি হলে উপত্যকা ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হতে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, 'খ' হলো নদীর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ যা মোহানায় গঠিত হয় এবং 'গ' হলো নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ যা পার্বত্য অঞ্চলে গঠিত হয়।
HSC Geography 1st Paper Chapter 3 : ভূমিরুপ পরিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 3 : ভূমিরুপ পরিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' ভূমিরূপ দুটির গঠন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর

উত্তর
