সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকের (তোমার) দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে বলে তুমি কি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।
উত্তর: "সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে"- উক্তিটি যথার্থ। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা রয়েছে। মূলত নাগরিকদের যথাযথ কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই সুশাসন পূর্ণতা পায়। সুশাসনের মূলভিত্তি হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ। নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নাগরিকদের অংশগ্রহণ করতে হবে। সুশাসনের আরেকটি উপাদান হলো জবাবদিহিতা। জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে নাগরিকরা যদি সচেতনতা প্রদর্শন না করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয় হলো রাষ্ট্রীয় অর্থের পর্যাপ্ত যোগান থাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থের যোগানের উৎস হলো নাগরিকদের দেওয়া কর। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য হলো নিয়মিত কর প্রদান করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করাও নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সরকারের ভালো কাজে যেমন সহযোগিতা করা প্রয়োজন, তেমনি জনকল্যাণ বা জনস্বার্থ বিরোধী কাজের সমালোচনা করাও নাগরিকদের দায়িত্ব। এছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের নিষ্ঠার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে। মূল্যবোধের চর্চা এবং নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের অনুশীলন করতে হবে। সেইসাথে আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকের কর্তব্য পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার ও নাগরিকের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত হয়।
HSC Civics 1st Paper Chapter 2 : সুশাসন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · Chapter 2 : সুশাসন · সৃজনশীল
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকের (তোমার) দায়িত্ব ও কর্তব…
উদ্দীপক

হলিক্রস কলেজ · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর