Chapter 2 : সুশাসন Civics 1st Paper

HSC Civics 1st Paper এর Chapter 2 : সুশাসন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৫১

প্রশ্ন

Civics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশের নাগরিক মি, দুর্জয় যুক্তরাষ্ট্রে বাস করে। সেখানে তিনি এই দেশের লোকজন নিয়ে জাতীয় দিবসসমূহ যেমন- শহিদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস প্রভৃতি উদ্যাপন করেন। এছাড়া বাংলা নববর্ষ ও বসন্তবরণ উৎসব উদ্যাপন করেন।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025

ক
জাতীয়তা কী?

উত্তর

জাতীয়তা হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী এমন এক জনসমষ্টি, যার সদস্যরা ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং ঐতিহ্যের দ্বারা সংঘবদ্ধ এবং অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা মনে করে থাকে।
খ
ভাবগত বা মানসিক ঐক্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য জাতীয়তাবোধ গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক উপাদান। মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ব্যতীত জাতি গঠনের অন্য উপাদানসমূহ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আধুনিক রাষ্ট্রের ঐক্যের ভিত্তি বাহ্যিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক। জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে শুধু বংশগত, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকলেই হবে না বরং এর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যদি মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য না থাকে তাহলে তা কখনই জনগণকে জাতীয়তাবোধ গঠন করতে পারবে না। এ জন্যই বলা হয় জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে জনগণের মনের আগ্রহই হলো মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য।
গ
দীপকে মি. দুর্জয়ের মধ্যে কোন ধরনের অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. দুর্জয়ের মধ্যে দেশপ্রেম অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। মাতৃভূমির প্রতি ভাবাবেগ, মমত্ববোধ ও অনুভূতিই হলো দেশপ্রেম। এটি হলো এক ধরনের মানসিক চেতনা, যা দেশকে প্রবলভাবে ভালোবাসা, সমর্থন করা এবং দেশকে রক্ষার জন্য শত্রু বা অনিষ্টকারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত রাখে। দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা, দেশীয় পণ্যকে প্রাধান্য দেওয়া, জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা ও অপচয়রোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রভৃতি দেশপ্রেমের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অবস্থান করলেও দেশকে সদা অন্তরে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা, দেশীয় সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আচার-আচরণ প্রভৃতি দেশপ্রেমের প্রতিফলন। উদ্দীপকে বর্ণিত মি. দুর্জয়ের চরিত্রে দেশের প্রতি গভীর ভাবাবেগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেও দেশের জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপন করেন। যা দ্বারা দেশপ্রেমের সুস্পষ্ট এবং গভীরতা প্রকাশ পায়। বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন দেশপ্রেমিক সন্তান তার নিজ মাতৃভূমিকেই বুকে ধারণ করে পরম আনন্দ লাভ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মি. দুর্জয়ের মধ্যে দেশপ্রেম অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারণাটি হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয়তাবোধ থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি হয় এবং জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম উভয়ই একপ্রকার মানসিক ধারণা ও অনুভূতি। দেশের মাটি ও মানুষকে একাত্ম করে ভাবার অনুভূতি মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই অনুভব করে, কেননা জন্মসূত্রেই মানুষের সাথে জন্মভূমির সংযোগ গড়ে ওঠে। দেশপ্রেমে বলীয়ান ব্যক্তির কাছে নিজের দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই দেশের জন্য জীবন দিতেও নাগরিকরা পিছপা হন না। দেশপ্রেমে গড়ে উঠে ঐক্যবোধ, যা জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। দেশপ্রেমের মাধ্যমেই নাগরিকদের মনে জাতীয়তাবোধ জন্মায়। জাতীয়তাবাদের বিকাশের জন্য নানা ধরনের উপাদান থাকা আবশ্যক। আবার, দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশও ঘটে এরূপ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়েই। যেমন- বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম ভিত্তি হলো ভাষা। আর বাংলা ভাষার জন্য বিপ্লবের মাধ্যমে সংঘটিত ভাষা আন্দোলন একাধারে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এভাবে এ উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূল নিয়ামক হিসেবে দেশপ্রেমকে নির্দেশ করা যায়। তাই বলা যায়, জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি এবং কখনো কখনো দেশপ্রেম থেকে জাতীয়তাবোধের উৎপত্তি ঘটে। সুতরাং, দেশপ্রেম ও জাতীয়তা একই সূত্রে গাঁথা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশের নাগরিক মি, দুর্জয় যুক্তরাষ্ট্রে বাস করে। সেখানে তিনি এই দেশের লোকজন নিয়ে জাতীয় দিবসসমূহ যেমন- শহিদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস প্রভৃতি উদ্যাপন করেন। এছাড়া বাংলা নববর্ষ ও বসন্তবরণ উৎসব উদ্যাপন করেন।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025

ক
জাতীয়তা কী?

উত্তর

জাতীয়তা হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী এমন এক জনসমষ্টি, যার সদস্যরা ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং ঐতিহ্যের দ্বারা সংঘবদ্ধ এবং অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা মনে করে থাকে।
খ
ভাবগত বা মানসিক ঐক্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য জাতীয়তাবোধ গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক উপাদান। মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ব্যতীত জাতি গঠনের অন্য উপাদানসমূহ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আধুনিক রাষ্ট্রের ঐক্যের ভিত্তি বাহ্যিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক। জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে শুধু বংশগত, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকলেই হবে না বরং এর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যদি মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য না থাকে তাহলে তা কখনই জনগণকে জাতীয়তাবোধ গঠন করতে পারবে না। এ জন্যই বলা হয় জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে জনগণের মনের আগ্রহই হলো মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য।
গ
দীপকে মি. দুর্জয়ের মধ্যে কোন ধরনের অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. দুর্জয়ের মধ্যে দেশপ্রেম অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। মাতৃভূমির প্রতি ভাবাবেগ, মমত্ববোধ ও অনুভূতিই হলো দেশপ্রেম। এটি হলো এক ধরনের মানসিক চেতনা, যা দেশকে প্রবলভাবে ভালোবাসা, সমর্থন করা এবং দেশকে রক্ষার জন্য শত্রু বা অনিষ্টকারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত রাখে। দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা, দেশীয় পণ্যকে প্রাধান্য দেওয়া, জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা ও অপচয়রোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রভৃতি দেশপ্রেমের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অবস্থান করলেও দেশকে সদা অন্তরে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা, দেশীয় সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আচার-আচরণ প্রভৃতি দেশপ্রেমের প্রতিফলন। উদ্দীপকে বর্ণিত মি. দুর্জয়ের চরিত্রে দেশের প্রতি গভীর ভাবাবেগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেও দেশের জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপন করেন। যা দ্বারা দেশপ্রেমের সুস্পষ্ট এবং গভীরতা প্রকাশ পায়। বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন দেশপ্রেমিক সন্তান তার নিজ মাতৃভূমিকেই বুকে ধারণ করে পরম আনন্দ লাভ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মি. দুর্জয়ের মধ্যে দেশপ্রেম অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারণাটি হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয়তাবোধ থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি হয় এবং জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম উভয়ই একপ্রকার মানসিক ধারণা ও অনুভূতি। দেশের মাটি ও মানুষকে একাত্ম করে ভাবার অনুভূতি মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই অনুভব করে, কেননা জন্মসূত্রেই মানুষের সাথে জন্মভূমির সংযোগ গড়ে ওঠে। দেশপ্রেমে বলীয়ান ব্যক্তির কাছে নিজের দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই দেশের জন্য জীবন দিতেও নাগরিকরা পিছপা হন না। দেশপ্রেমে গড়ে উঠে ঐক্যবোধ, যা জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। দেশপ্রেমের মাধ্যমেই নাগরিকদের মনে জাতীয়তাবোধ জন্মায়। জাতীয়তাবাদের বিকাশের জন্য নানা ধরনের উপাদান থাকা আবশ্যক। আবার, দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশও ঘটে এরূপ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়েই। যেমন- বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম ভিত্তি হলো ভাষা। আর বাংলা ভাষার জন্য বিপ্লবের মাধ্যমে সংঘটিত ভাষা আন্দোলন একাধারে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এভাবে এ উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূল নিয়ামক হিসেবে দেশপ্রেমকে নির্দেশ করা যায়। তাই বলা যায়, জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি এবং কখনো কখনো দেশপ্রেম থেকে জাতীয়তাবোধের উৎপত্তি ঘটে। সুতরাং, দেশপ্রেম ও জাতীয়তা একই সূত্রে গাঁথা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026

ক
প্রজাতন্ত্র কী?

উত্তর

যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তা-ই প্রজাতন্ত্র।
খ
বহুদলীয় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দুই এর অধিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম দেখা যায়, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি দল নিজ নিজ দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। যে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, সেই দল সরকার গঠন করে। ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, ফ্রান্স এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। বহুদলীয় ব্যবস্থায় সমাজের বিভিন্নমুখী চিন্তাধারা সহজে প্রকাশ পায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রটিতে কীসের অভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রটিতে 'সুশাসন' এর অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। সুশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়। এটি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক 'উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার নির্বাচিত হলেও সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সুশাসনের মূল স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, যা না থাকলে গণতান্ত্রিক সরকারও জনকল্যাণে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের এই নেতিবাচক পরিস্থিতিগলো স্পষ্ট করে যে 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের চরম অভাব রয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে কীভাবে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ক' নামক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।' সুশাসন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। একটি রাষ্ট্রে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, তখন সম্পদের সঠিক বণ্টন ঘটে এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়। সুশাসন নিশ্চিত হলে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে বর্তমানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও সেখানে গণতন্ত্র বিদ্যমান, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে জনগণ গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না। এই অবস্থায় যদি সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা যায় এবং কর্মকর্তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবেই অরাজকতা ও দুর্নীতি দূর হবে। পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন সংবাদপত্রের মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার সুযোগ থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026

ক
প্রজাতন্ত্র কী?

উত্তর

যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তা-ই প্রজাতন্ত্র।
খ
বহুদলীয় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দুই এর অধিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম দেখা যায়, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি দল নিজ নিজ দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। যে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, সেই দল সরকার গঠন করে। ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, ফ্রান্স এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। বহুদলীয় ব্যবস্থায় সমাজের বিভিন্নমুখী চিন্তাধারা সহজে প্রকাশ পায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রটিতে কীসের অভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রটিতে 'সুশাসন' এর অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। সুশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়। এটি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক 'উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার নির্বাচিত হলেও সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সুশাসনের মূল স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, যা না থাকলে গণতান্ত্রিক সরকারও জনকল্যাণে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের এই নেতিবাচক পরিস্থিতিগলো স্পষ্ট করে যে 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের চরম অভাব রয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে কীভাবে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ক' নামক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।' সুশাসন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। একটি রাষ্ট্রে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, তখন সম্পদের সঠিক বণ্টন ঘটে এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়। সুশাসন নিশ্চিত হলে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে বর্তমানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও সেখানে গণতন্ত্র বিদ্যমান, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে জনগণ গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না। এই অবস্থায় যদি সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা যায় এবং কর্মকর্তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবেই অরাজকতা ও দুর্নীতি দূর হবে। পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন সংবাদপত্রের মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার সুযোগ থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. ডন তার বাংলাদেশি বন্ধুর সাথে ইংল্যান্ড থেকে বেড়াতে আসেন। এখানে এসে তিনি সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখতে পান। রাস্তার পাশে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় স্তুপ করে রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ বাজার ব্যবস্থা জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে এসব দেখে তিনি হতাশ হন। এখানকার শাসন ব্যবস্থাতেও তিনি কোনো পরিচ্ছন্নতা খুঁজে পাননি।

সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026

ক
সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

উত্তর

সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো- 'Good Governance′Governance^{\prime} ।
খ
স্বচ্ছতা কীসের পূর্বশর্ত? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

স্বচ্ছতা হলো সুশাসনের পূর্বশর্ত। স্বচ্ছতা বলতে কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট ও উন্মুক্ত রাখাকে বোঝায়। যখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তখন দুর্নীতির সুযোগ কমে যায় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। স্বচ্ছতা থাকলে নাগরিকরা সরকারের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
গ
সুশাসনের পথে সমস্যাগুলো কী কী? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে সুশাসনের পথে প্রধান সমস্যাগুলো হলো আইনের শাসনের অভাব, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। যখন একটি রাষ্ট্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকে না এবং প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া জনগণের অংশগ্রহণের অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সুশাসনকে ব্যাহত করে। উদ্দীপকে মি. ডন বাংলাদেশে এসে সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখতে পান। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রাখা এবং ভ্রাম্যমাণ বাজারের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া প্রমাণ করে যে এখানে আইনের শাসনের অভাব রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বিশৃঙ্খলা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকা এবং শাসন ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্নতার অভাব সুশাসনের পথে বড় অন্তরায়। এই বিশৃঙ্খলাগুলো মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার অভাব থেকেই সৃষ্টি হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
ঘ
উদ্দীপকের ভিত্তিতে তুমি কি মনে কর যে, বাংলাদেশকে একটি সুশাসনের দেশ বলা চলে?- উক্তিটি যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুশাসনের দেশ বলা কঠিন। সুশাসন একটি আদর্শ অবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত থাকে। একটি রাষ্ট্রে যখন প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই তাকে সুশাসনের দেশ বলা যায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে মি. ডন ইংল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় কোনো পরিচ্ছন্নতা খুঁজে পাননি। সামাজিক জীবনে বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগের চিত্রটি মূলত সুশাসনের অভাবকেই নির্দেশ করে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্দীপকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে নাগরিক অধিকার ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন এখনো পুরোপুরি সফল নয়। পরিশেষে বলা যায়, যদিও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু সুশাসনের মানদণ্ডে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে সুশাসনের দেশ বলা যৌক্তিক হবে না। উদ্দীপকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ সুশাসন অর্জনের পথে থাকলেও একে এখনো একটি আদর্শ সুশাসনের দেশ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. ডন তার বাংলাদেশি বন্ধুর সাথে ইংল্যান্ড থেকে বেড়াতে আসেন। এখানে এসে তিনি সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখতে পান। রাস্তার পাশে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় স্তুপ করে রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ বাজার ব্যবস্থা জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে এসব দেখে তিনি হতাশ হন। এখানকার শাসন ব্যবস্থাতেও তিনি কোনো পরিচ্ছন্নতা খুঁজে পাননি।

সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026

ক
সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

উত্তর

সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো- 'Good Governance′Governance^{\prime} ।
খ
স্বচ্ছতা কীসের পূর্বশর্ত? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

স্বচ্ছতা হলো সুশাসনের পূর্বশর্ত। স্বচ্ছতা বলতে কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট ও উন্মুক্ত রাখাকে বোঝায়। যখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তখন দুর্নীতির সুযোগ কমে যায় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। স্বচ্ছতা থাকলে নাগরিকরা সরকারের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
গ
সুশাসনের পথে সমস্যাগুলো কী কী? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে সুশাসনের পথে প্রধান সমস্যাগুলো হলো আইনের শাসনের অভাব, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। যখন একটি রাষ্ট্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকে না এবং প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া জনগণের অংশগ্রহণের অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সুশাসনকে ব্যাহত করে। উদ্দীপকে মি. ডন বাংলাদেশে এসে সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখতে পান। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রাখা এবং ভ্রাম্যমাণ বাজারের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া প্রমাণ করে যে এখানে আইনের শাসনের অভাব রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বিশৃঙ্খলা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকা এবং শাসন ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্নতার অভাব সুশাসনের পথে বড় অন্তরায়। এই বিশৃঙ্খলাগুলো মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার অভাব থেকেই সৃষ্টি হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
ঘ
উদ্দীপকের ভিত্তিতে তুমি কি মনে কর যে, বাংলাদেশকে একটি সুশাসনের দেশ বলা চলে?- উক্তিটি যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুশাসনের দেশ বলা কঠিন। সুশাসন একটি আদর্শ অবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত থাকে। একটি রাষ্ট্রে যখন প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই তাকে সুশাসনের দেশ বলা যায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে মি. ডন ইংল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় কোনো পরিচ্ছন্নতা খুঁজে পাননি। সামাজিক জীবনে বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগের চিত্রটি মূলত সুশাসনের অভাবকেই নির্দেশ করে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্দীপকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে নাগরিক অধিকার ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন এখনো পুরোপুরি সফল নয়। পরিশেষে বলা যায়, যদিও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু সুশাসনের মানদণ্ডে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে সুশাসনের দেশ বলা যৌক্তিক হবে না। উদ্দীপকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ সুশাসন অর্জনের পথে থাকলেও একে এখনো একটি আদর্শ সুশাসনের দেশ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো