বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরমান কার্যক্রম অর্থাৎ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের বকনা বা গাভী উৎপাদনের গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হলো-
কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে অনুন্নত গবাদিপশুর জাতের উন্নয়ন করা যায়। এ প্রজননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রজননের দ্বারা সৃষ্ট যৌন ব্যাধির হাত থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গাভীর গর্ভধারণের হার বেশি হয়। আমাদের দেশি গাভী দৈনিক মাত্র ১-২ লিটার দুধ দেয়। দেশি গাভীকে উন্নত পরিবেশ এবং সুষম খাদ্য দিলেও এ উৎপাদন ৩ লিটারের বেশি আশা করা যায় না। তবে দেশি গাভীকে উন্নতজাতের ষাঁড়ের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত বাচ্চা থেকে দৈনিক ১০-১৫ লিটার দুধ পাওয়া সম্ভব। আবার, আমাদের দেশি গরু আকারে ছোট, মাংস উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। একটি প্রাপ্তবয়স্ক গরুর ওজন গড়ে ১৫০ কেজি মাত্র। তবে এ গাভীর উন্নত জাতের ষাঁড়ের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে যে বাচ্চা হবে, সেটি প্রাপ্তবয়স্ক হলে ওজন হবে ৩০০-৪০০ কেজি। ফলে গরুর আকার বড় হবে, মাংস বেশি হবে এমনকি চামড়াও বড় হবে যা আর্থিক সচ্ছলতার পথকে সুগম করবে।
উপরের বর্ণনা থেকে বলা যায় দেশি গরু থেকে যেখানে উৎপাদন কম * পাওয়া যায় সেখানে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত গাভী থেকে উৎপাদন অনেক বেশি পাওয়া যায়। তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলমের কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম ও সময়োপযোগী।