দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ যথাক্রমে শেল্ডনের শারীরিক গঠনের ভিত্তিতে ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মতবাদটি তুলে ধরা হয়েছে। নিচে মতবাদটির শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে :
১. এনডোমরফিক : এ শ্রেণির ব্যক্তিত্বের অধিকারী লোকেরা মেদবহুল, নরম ও গোলগাল শরীরের অধিকারী হয়। এসব ব্যক্তির পেট শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বড় এবং স্ফীত। এদের পেশি ও অস্থি অপরিপুষ্ট থাকে। এরা বন্ধুভাবাপন্ন, পরনির্ভরশীল, আরামপ্রিয় ও ভোজনপ্রিয় হয়ে থাকে।
২. এটোমরফিক : এ ধরনের ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের দেহ ছিপছিপে লম্বা, সরু অস্থি ও হালকা-পাতলা গঠনের হয়। এসব ব্যক্তি যেকোনো কাজে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করে থাকে। এ ধরনের ব্যক্তিরা সামাজিক মেলামেশা পছন্দ করে না।
৩. মেসোমরফিক : মেসোমরফিক শ্রেণির ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিরা সুঠাম দেহের অধিকারী। এদের কাঁধ ও বুক চওড়া। মূলত এদের অস্থি ও পেশির প্রাধান্য বেশি। এরা খেলাধুলা পছন্দ করে এবং অন্যের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে : শেলডন মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন গুণাবলিকে তিন ভাগে ভাগ করেন। যা মূলত দৈহিক গঠনের সাথে সংগতি রেখে মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। যথা-
১. ভিসেরোটোনিক : এ শ্রেণির ব্যক্তিত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আরামপ্রিয়, ভোজনবিলাসী, সামাজিক স্বীকৃতির প্রত্যাশী, বন্ধু- বান্ধবের সাথে গল্প-গুজব করতে পছন্দ করা ।
২. সেরিবোটোনিক : এ শ্রেণির ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হলো একাকিত্ব, শান্ত, দুর্বল প্রকৃতির ও সামাজিক মেলামেশা পছন্দ করে না। এরা আত্মসংযমী হয়।
৩. সোমাটোটনিক : এ শ্রেণির ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হলো সাহসী, কর্মঠ, আগ্রাসী এবং কাজে-কর্মে, কথায়, ভঙ্গিতে প্রভুত্বপ্রিয়।
এদের মধ্যে উদ্যমশীল ও প্রচেষ্টামূলক কাজের প্রাধান্য দেখা যায় । শেল্ডন বহুসংখ্যক ব্যক্তিদের উপর পর্যবেক্ষণ করে তিনটি গুণাবলির সাথে তিন ধরনের শারীরিক গঠনের সম্পর্ক খুঁজে পান। যেমন- ভিসেরোটোনিকের সাথে এনডোমরফিকের, সোমাটোটনিক-এর সাথে মেসোমরফিকের এবং সেরিব্রোটনিক- এর সাথে একটোমরফিকের শারীরিক গঠনের সম্পর্ক রয়েছে। পরীক্ষণে দেখা গেছে যে, একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গবেষণাকর্মীরা ফ্যাক্টরি কর্মচারীদের চেয়ে বেশি একটোমরফিক এবং কম মেসোমরফিক। অনেকে রিপোর্ট করেছেন যে, কিশোর অপরাধীরা সাধারণত মেসোমরফিক হয়ে থাকে।