ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে দৃশ্যকল্প-২ এর 'ক' পদ্ধতিটি সাক্ষাৎকার পদ্ধতি। এটি একটি অপ্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা।
ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নের জন্য সাক্ষাৎকার পদ্ধতি বহুলাংশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী সামনাসামনি আসেন এবং প্রত্যক্ষ কথোপকথনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাক্ষাৎকার প্রদানকারীকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তার ব্যক্তিগত বিষয়ের উপর নানা ধরনের আলাপ আলোচনা করেন। এ আলাপের মাধ্যমে ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ, অনুভূতি, মনোভাব ইত্যাদি সম্বন্ধে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী মোটামুটি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সাক্ষাৎকার পদ্ধতি চার রকমের হতে পারে। এ চার ধরনের পরিস্থিতি উল্লেখপূর্বক তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে কী কী প্রশ্ন করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে। অর্থাৎ সাক্ষাৎকার প্রদানকারী সকলকে একটা নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়।
২. অনির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এক্ষেত্রে আলোচনার গতি আগে থেকে নির্ধারণ করা হয় না। অনির্ধারিত সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং উত্তরসমূহ খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন।
৩. চাপমূলক সাক্ষাৎকার: তীব্র চাপমূলক পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কী ধরনের আচরণ করে তার মূল্যায়নের জন্য চাপমূলক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। এ পদ্ধতি অযথা সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর উপর চাপ সৃষ্টি করে।
৪. ক্লান্তিমূলক সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকার প্রদানকারীকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে তাকে ব্যতিব্যস্ত এবং ক্লান্ত করা হয়। ব্যক্তি ক্লান্ত ও অবসন্ন হলে তার মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ ভেঙ্গে পড়বে এবং তার অসংগতিগুলো ধরা পড়বে। এভাবে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণের আড়ালে লুক্কায়িত তার প্রেষণা বা দৃষ্টিভঙ্গি অথবা মানসিক দুর্বলতা নির্ণয় করা যেতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, সাক্ষাৎকার ব্যক্তিত্ব পরিমাপের কোনো আদর্শায়িত পন্থা নয়, এটি একটি অনুভবসিদ্ধ ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি।