উদ্দীপকে রিফাত আচরণগত দিক দিয়ে অন্তর্মুখী এবং সিফাত আচরণগত দিক দিয়ে বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নিচে রিফাত ও সিফাতের আচরণগত পার্থক্যের মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-কার্ল জি ইয়ং মানুষের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিত্বের শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এজন্য এ মতবাদ ব্যক্তিত্বের মনোবৈজ্ঞানিক প্রকারভেদ মতবাদ নামে পরিচিত। তিনি ব্যক্তিত্বকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেন। যথা- অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব এবং বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব।
অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব: অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগণ নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। বাইরের জগতের প্রতি তাদের আকর্ষণ খুবই কম। এ ধরনের লোকের বৈশিষ্ট্য হলো এরা খুব আত্মকেন্দ্রিক, বাহ্য বস্তুর প্রতি উদাসীন, আত্মসচেতন এবং স্বার্থপর। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা অত্যন্ত চিন্তাশীল, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়। এরা কাজের চেয়ে চিন্তার রাজ্যে বিচরণ করতে বেশি পছন্দ করে। এরা বাইরের জগতের কর্ম কোলাহলে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হয় না। এদের মধ্যে সামাজিকতা বোধের একান্ত অভাব। নতুন পরিবেশে এরা সহজে নিজেদের খাপখাইয়ে নিতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তিরা খুব চিন্তাশীল এবং সৃজনশীল প্রতিভার অধিকার হয়ে থাকে। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, বিজ্ঞানীদের এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা চলে।
বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব: বাইরের জগতের প্রতি এদের রয়েছে প্রবল আকর্ষণ। এরা অন্যের সাথে মিশতে এবং প্রাণ খুলে আনন্দ প্রকাশে আগ্রহী। বাইরের জগতের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে এরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। গৃহে বন্দি থাকতে এরা নারাজ। সুদূর নীলাকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মতো স্বাধীনভাবে বিচরণই এদের প্রত্যাশা। বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা খুবই সামাজিক এবং যেকোনো পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে এরা নিজেদের তাল মিলিয়ে নিতে পারে। নিজের জন্য এদের তেমন ব্যথা নেই; এদের যত চিন্তা-ভাবনা সবই অন্যের জন্য। সমাজসেবা, খেলাধুলা, দেশভ্রমণ, ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদি কাজে এরা খুবই আগ্রহী।