ছক-১ ও ছক-২ এ নির্দেশিত অভীক্ষাগুলো যথাক্রমে রোশাক কালির ছাপ অভীক্ষা এবং কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষাকে নির্দেশ করে ।
হারম্যান রোশাক কর্তৃক ১৯২১ সালে প্রণীত রোশাক কালির ছাপ অভীক্ষাটি হলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অভীক্ষা। ১০টি কালির ছাপবিশিষ্ট কার্ড নিয়ে এ অভীক্ষা গঠিত। এ অভীক্ষায় তিনটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। যথা— ১. পরীক্ষণপাত্র কালির ছাপগুলোকে সামগ্রিকভাবে বর্ণনা করেছে না অংশবিশেষ বর্ণনা করেছে। ২. ছবির আকৃতি, রং বা অন্য কিছুর দ্বারা তার প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে কি না এবং ৩. পরীক্ষণের প্রত্যক্ষণে কী গতি লক্ষণীয়? অথবা সে ছবিগুলোকে মানুষ বা জন্তু হিসেবে দেখেছে; না অন্য কিছু দেখেছে। ক্রিস্টিয়ানা মরগান এবং এইচ. এ. মারে ১৯৩৫ সালে কাহিনি সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা প্রণয়ন করেন। এ অভীক্ষায় মোট ২০টি কার্ড ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে গল্প রচনা করতে হয়। গল্প লেখার ধারার উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। গল্প লেখার ধারা হলো— ছবিটিতে কী দেখা যাচ্ছে, কী ঘটছে, ছবিতে লোকগুলো কী ভাবছে। কীভাবে কাহিনীর সৃষ্টি হয়েছিল, এর পরিণতিই বা কী ইত্যাদি। ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ছবিগুলো দেখে যে সকল গল্প রচনা করেন তার দৈর্ঘ্য, স্টাইল, বক্তব্য, নায়ক নির্বাচন, ব্যর্থতা ইত্যাদি বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, রোশাক কালির ছাপ অভীক্ষায় এবং কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষায় ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলাদা হলেও এরা উভয়ই প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা বা প্রতিফলন অভীক্ষার অন্তর্ভুক্ত।