উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তার শেষ উক্তিটি হলো, বাংলাদেশে চিনির চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়াতে আখ চাষ লাভজনক। বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাটের পরেই আখের স্থান।
এদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের চাষিদের কাছে আখ একটি অর্থকরী ফসল। জাতিসংঘের খাদ্য এ কৃষি সংস্থার সুপারিশ অনুসারে জনপ্রতি সুস্থ মানুষের বার্ষিক কমপক্ষে ১৩ কেজি চিনি বা ১৭ কেজি গুড়ের প্রয়োজন হয়। অথচ এদেশে মাথাপিছ চিনি ও গুড়ের মোট প্রাপ্যতা ৬ কেজিরও কম। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় চিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত রোগীর পথ্য, শিশুর খাদ্য, পানীয়, বেকারি শিল্প ও নানা প্রকার মিষ্টান্ন তৈরিতে চিনি অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প নেই। আখের রস থেকে চিনি, গুড় ও সিরাপ উৎপন্ন করা যায়। আখ থেকে উৎপাদিত চিনি বিভিন্ন প্রকার খাদ্য তৈরিতে এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। আখের ছোবড়া থেকে কাগজ, হার্ডবোর্ড ইত্যাদি তৈরি হয়। ঝোলাগুড় স্পিরিট ও অ্যালকোহল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এজন্য আখকে শিল্প ফসল বলা হয়। বিশেষ করে আমাদের দেশে চিনিকলগুলোর একমাত্র কাঁচামাল হচ্ছে আখ। আস্ত আখ এবং মেশিন দ্বারা রস বের করে খাবার প্রথাও বর্তমানে পথে ঘাটে চালু আছে। এছাড়াও আখ থেকে উৎপাদিত চিনি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেতে পারে। অধিক আখ উৎপাদনের মাধ্যমে চিনি শিল্পের সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যায়। এসব কারণে আখ চাষ বর্তমানে লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।
সুতরাং উপর্যুক্ত তথ্যাদি থেকে বলা যায়, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চিনির চাহিদা মেটাতে আখ চাষ খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। অতএব কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থবহুল।