উদ্দীপকে রনি প্রতিবছর তেল ও মসলাজাতীয় ফসল চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই জমিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডালজাতীয় ফসল চাষ করেন। ডালকে গরিবের মাংস বলা হয়।
কারণ মাংসের ন্যায় ডালেও আমিষ থাকে। ডাল ফসলের মূল বা শিকড়ে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতায় পুঁটি বা নডিউল সৃষ্টি করে। উক্ত নডিউলে রাইজোবিয়াম অণুজীব বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেনকে সংবন্ধন করে মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি করে। এজন্য মাটিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োজন পড়ে না। অপরদিকে একই জমিতে প্রতিবছর তেল ও মসলাজাতীয় ফসল আবাদ করলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়। এমনকি বারবার একই ফসল। একই জমিতে চাষ করলে সে ফসল রোগ-বালাই দ্বারা বেশি সংক্রমিত। হয় ফলে ফলনও কমে যায়। এজন্য মাঝে মাঝে একই জমিতে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করতে হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, মাটির হারানো উর্বরাশক্তি ফিরে পেতে, মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে, ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে সর্বোপরি নিজের ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে রনির ফসল চাষের পরিবর্তন খুবই যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।