অর্থনৈতিক দিক থেকে ফুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা। এক বিঘা জমিতে ধান বা পাট চাষে যতটা লাভ না হয় তার থেকে অনেক বেশি লাভজনক হলো ফুল চাষ।
ফুল দিয়ে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সুগন্ধি, পারফিউম তৈরি করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উৎসব, আয়োজন, বিয়ে ইত্যাদিতে ফুল অপরিহার্য একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশের ভিতরেই প্রায় ৭ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। ফুলের চারা উৎপাদন ও বিক্রির জন্য সরকারি ৫০টি সহ এক থেকে দেড় হাজার নার্সারি রয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে। ২ ৩ লক্ষাধিক লোক জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়াও যেকোনো ফসলের চেয়ে ফুল চাষ করলে খরচ কম লাভ বেশি হয়। হিসাব করে দেখা গেছে, এক মৌসুমে এক বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করলে খরচ বাদে নীট লাভ থাকে ৩৫ ৪০ হাজার টাকা, রজনীগন্ধায় লাভ হয় ৪০ ৫০ হাজার টাকা, চন্দ্রমল্লিকায় লাভ হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা, গোলাপে এক একরে ৩৪ বছরে ৩-৪ লাখ টাকা ও জার্বেরাতে এক একরে ৩-৪ বছরে ৯-১০ লাখ টাকা। অন্যান্য ফুলেও এরকম লাভ হয়। অথচ এক বিঘা ধান চাষে লাভ হয় মাত্র ১৪ ১৫ হাজার টাকা।
সুতরাং, উপর্যুক্ত আলোচনা দ্বারা ফুল চাষ যে অত্যন্ত লাভজনক তা সহজে অনুমান করা যায়। অর্থাৎ ফুল চাষ উপার্জনের একটি উত্তম। পথ-উক্তিটি খুবই যুক্তিপূর্ণ ও যথার্থ।