সরকারি পরিসংখ্যানের উৎসগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পরিসংখ্যানিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি পরিসংখ্যান সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মূল সংস্থা। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের আদমশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারি, পশুশুমারি, কৃষিশুমারি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের উপর তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করা। প্রতিষ্ঠানটি নিজের সংগৃহীত তথ্য ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগৃহীত তথ্যও প্রকাশ করে থাকে। ইহা শুমারি জরিপের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নমুনা জরিপও পরিচালনা করে থাকে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন সরকারি পরিসংখ্যানের অন্যান্য উৎসের সাথে সমন্বয় সাধন করে থাকে।
২. বাংলাদেশ ব্যাংক : বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যানের একটি অন্যতম উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা সরবরাহ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ, বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক বিনিময়, ব্যাংক ঋণ, সরকারি ঋণ, লেনদেনের ভারসাম্য ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংকলন ও প্রকাশনার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিসংখ্যান বিভাগ ও একটি গবেষণা বিভাগ রয়েছে। এর কাজ হলো আর্থিক ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিশেষ বিশেষ অবস্থার উপর গবেষণা রিপোর্ট পেশ করা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিভাগ নিয়মিতভাবে মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
৩ . শিক্ষা মন্ত্রণালয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি এ তিনটি বিভাগ রয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে 1977 সালে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS) নামে একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা গঠন করা হয়। এ সংস্থা প্রাথমিক স্তর হতে শুরু করে সকল স্তরের শিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করে থাকে। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা বোর্ডসমূহ প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ করে থাকে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দপ্তর নিজ নিজ ক্ষেত্রের শিক্ষা পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে।
৪. কৃষি মন্ত্রণালয়: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কৃষি বিভাগ বিভিন্ন প্রকার কৃষি বিষয়ক যেমন- কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন, মূল্য ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন ও প্রকাশ করে থাকে। এ মন্ত্রণালয় কৃষিশুমারি পরিচালনা করে এবং কৃষিজাত পণ্যের চলতি পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে।
৫. অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় : এ মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাজেট সংক্রান্ত তথ্যের উপর নিয়মিত পরিসংখ্যান রিপোর্ট সংকলন ও' প্রকাশ করে থাকে। এ মন্ত্রণালয়রের অধীনে পরিকল্পনা কমিশন মূলত বার্ষিক, দ্বিবার্ষিক, পঞ্চবার্ষিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাসমূহ প্রণয়ন করে থাকে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এ, দপ্তর প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ বিভিন্ন সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সংগ্রহ করে সংকলন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করে থাকে।
৬. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় : এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এবং নার্সিং কাউন্সিল স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক কার্যক্রমের উপর তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে। স্বাস্থ্যদপ্তর জন্ম, মৃত্যু, রোগ, চিকিৎসা, ডাক্তার ও রোগীর সংখ্যার অনুপাত, রোগীর অর্থ প্রদান ক্ষমতা বিষয়ক যাবতীয় তথ্য রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করে থাকে। পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পরিবারের সন্তান সংখ্যা, জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গ্রহণকারী দম্পতির সংখ্যা সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রয়োগ এবং পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত তথ্য-জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে।