উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন সেক্টরে পরিসংখ্যানিক উপাত্তকে গুরুত্ব না দেওয়ায় পেছনে যে সকল কারণ রয়েছে নিচে তা তুলে ধরা হলো-
১. ত্রুটিপূর্ণ সংগ্রহ পদ্ধতি : অনেক সময় অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিসংখ্যানিক জ্ঞানহীন অদক্ষ লোক দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য সংগ্রাহক নমুনাজ ও অনমুনাজ বিচ্যুতির কারণ এবং পরিমাণ সম্পর্কে উদাসীন থাকেন বিধায় ভুল পদ্ধতি ও পুরাতন নমুনা কাঠামো ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেন। ফলে সংগৃহীত তথ্য ত্রুটিপূর্ণ হয়ে থাকে।
২. তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার অভাব : বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান নিত্যদিনের কাজের মাধ্যমে যেসব পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে থাকে, তা অনেকটা কম নির্ভরযোগ্য। যেমন— কৃষি, স্বাস্থ্য, শুল্ক ও আবগারি বিভাগের প্রকাশিত তথ্য কম নির্ভরযোগ্য। তথ্য সংগ্রহকারীর প্রশিক্ষণের অভাব, বিচক্ষণতার অভাব, অলসতা ও অসততার কারণে সংগৃহীত তথ্য অশুদ্ধ ও অনির্ভরযোগ্য হয়।
৩. তথ্যের ত্রুটিপূর্ণ উপস্থাপন : বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকাশিত পরিসংখ্যান পরিপূর্ণ নয়। অনেক প্রকাশনায় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য, পরিধি, পদ্ধতি, সম্পাদনা ও সংশয়মাত্রা সম্পর্কে ফলে এসব কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। পরিসংখ্যানের গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা 'খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
৪. তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব : তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অনেক সময় একই তথ্য সংগৃহীত ও প্রকাশিত হয়। এর ফলে শ্রম, সময় ও সম্পদের অপচয় হয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত একই তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট গরমিল পরিলক্ষিত হয়, যাতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।
৫. রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব : নীতি নির্ধারণে ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরিসংখ্যান তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময় সংগৃহীত তথ্যের সংকলনে, বিশ্লেষণে ও সর্বোপরি বিলম্বের কারণে তথ্যের প্রকাশনা বিলম্বিত হয়। ফলে অনেক মুদ্রণে ক্ষেত্রেই এ প্রকাশনার উপযোগিতা ও কার্যকারিতা হারিয়ে যায়। ফলে রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হয় এবং উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় । ৬. আধুনিক পরিসংখ্যানিক যন্ত্রপাতির অভাব : আধুনিক যুগে এসব কাজ কম্পিউটারসহ নানাবিধ যন্ত্রপাতির সাহায্যে নির্ণয় করা হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এসব যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। ফলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয় না । অর্থাৎ গৃহীত সিদ্ধান্ত অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ে।
৭. উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব : অধিকাংশ সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের জন্য অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকদের নিয়োগ করা হয়। কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ না নিয়েই এরা তথ্য সংগ্রহ করেন। পরিসংখ্যানিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ না থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।
৮. তথ্যের অপর্যাপ্ততা : অধিকাংশ সরকারি পরিসংখ্যান গবেষণার প্রয়োজনে নয়, বরং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। ফলে এ তথ্যের পরিধি ও প্রয়েণ সীমিত। এতে তথ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত কারণগুলোর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সেক্টরে পরিসংখ্যানিক উপাত্তকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।