উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় উদ্ভিদটি হলো Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ। ধান, গম, ভুট্টা, আখ, দূর্বাঘাস, বাঁশ, জোয়ার, চিনা, কাউন প্রভৃতি Poaceae গোত্রের উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ। মানবকল্যাণে Poaceae গোত্রের উদ্ভিদের ব্যবহার নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- প্রথমেই বলা যায়, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের খাদ্যের যোগান আসে Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ থেকে। প্রকৃত ও প্রচলিত সব খাদ্যশস্যই এ গোত্রের উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত দুর্বাসহ কতিপয় তাজা ঘাস ও শুকনো ঘাস এ গোত্রেরই অন্তর্ভুক্ত। এ গোত্রের দানা জাতীয় শস্য ধান, গম, ভুট্টা ও যব থেকে প্রাপ্ত খাদ্যশস্যকে কেউ ভাত, কেউ রুটি আবার কেউ ছাতু অথবা সুজি হিসেবে গ্রহণ করছে। যবের ছাতু উপাদেয় সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যপদ খাদ্য। বাণিজ্যিকভাবে হরলিক্স, কমপ্ল্যান জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় । এছাড়া ভুট্টা থেকে কর্ণওয়েল পাওয়া যায় যা অত্যন্ত মূল্যবান । এ গোত্রের উদ্ভিদ লেমন ঘাসকে সুগন্ধি হিসেবে প্রসাধনী শিল্পে ও খাদ্যদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আবার ঝাড়ুঘাস ও দুর্বাঘাস ঝাড়ু তৈরিতে, রক্তপাত বন্ধে, ক্ষত নিরাময়ে ও পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। Poaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আখ থেকে চিনিকলে চিনি ও আখ মাড়াই কলে গুড় তৈরি করা হয়। এছাড়াও চিনিকলের বর্জ্য পদার্থ চিটাগুড় থেকে ইথাইল অ্যালকোহল ও মেথিলেটেড স্পিরিট এবং দেশি মদ তৈরি করা হয়। বাঁশ, নলখাগড়া, উলুখড়, আখের ছোবড়া ইত্যাদি কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এখানেই শেষ নয়, কতিপয় প্রজাতির ঘাস রাস্তা ও বাঁধের মাটি ক্ষয় রোধ কল্পে দু'পাশে লাগানো হয়। অতএব, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে একথা বলা যায় যে, ভূমিক্ষয় রোধ, গবাদিপশুর পালন, খাদ্যের যোগান ও শিল্পে উদ্দীপকের প্রথম গোত্রের উদ্ভিদ অর্থাৎ Poaceae গোত্রের উদ্ভিদের গুরুত্ব অপরিসীম।