উদ্ভিদ প্রজননে উদ্দীপকের 'A [গণিত] প্রযুক্তির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: টিস্যু কালচার প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে উদ্ভিদ প্রজনন এর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে বিভিন্ন উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে প্রজননবিদরা অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। নিচে এর কয়েকটি দিক উপস্থাপন করা হলোঃ ১| চারা উৎপাদনঃ যেসব উদ্ভিদের বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হয় না (যেমন থুজা, সাগর কলা) সেসব উদ্ভিদের ক্ষেত্রে টিস্যুকালচার প্রয়োগ করে চারাগাছ উৎপাদন ও বিপণন করা যায়। ফুল, ফল বা শস্য উৎপাদনকারী কোন ভালো জাতের উদ্ভিদ থেকে যদি অধিক সংখ্যক চারা উৎপাদন করা প্রয়োজন হয় তবে ঐ ভালো জাতের একটি উদ্ভিদ থেকে টিস্যু নিয়ে কালচার করে অনেক সংখ্যক চারাগাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এভাবে উৎপাদিত চারাগাছ সমূহ হুবহু এদের মাতৃ উদ্ভিদের মত হয়ে থাকে। কাজেই একই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ উৎপাদন করার জন্য টিস্যু কালচার প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর প্রক্রিয়া। ২| উদ্ভিদ সংরক্ষণঃ এছাড়া বর্তমানে অনেক বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদকে বিলুপ্তির হাত হতে রক্ষা করার জন্য টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ স্বল্প সময়ে উল্লিখিত উদ্ভিদ থেকে চারা উৎপাদন করা এ প্রযুক্তি ব্যবহারেই সম্ভব। ৩| ভ্রূণ কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদের কৃত্রিম প্রজননঃ টিস্যুকালচার প্রযুক্তির আর একটি বিশেষ দিক হলো ভ্রূণকালচার। ভ্রূণকালচারের মাধ্যমে উদ্ভিদ প্রজনন বিদ্যার অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। বিশেষ করে আন্তঃপ্রজাতির সংকরের ক্ষেত্রে ভ্রুণ পূর্ণতা লাভ না করায় সংকর উদ্ভিদ পাওয়া সম্ভব হয় না। এসব ক্ষেত্রে সংকরায়নের পর ভ্রূণকালচারে সাইটোপ্লাজমের বিশেষ গুণ স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য সমূহ স্থানান্তর ঘটিয়ে নতুন জাতের উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। আলু ও টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন করে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদের নাম দেয়া হয়েছে পোমাটো। ৪| সংকর উদ্ভিদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাস্ট মিলন বা ফিউশনঃ এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দুটি ভিন্ন প্রজাতির প্রোটোপ্লাস্ট সংযুক্তি ও তা থেকে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সংকর উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণ সংকরায়নের ক্ষেত্রে পুং ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলনের সময় পুংগ্যামিটে সাইটোপ্লাজম খুব কম থাকে এবং তা স্ত্রীগ্যামিটের বাইরে রয়ে যায়। কিন্তু প্রোটোপ্লাস্ট মিলনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাইটোপ্লাজমের মিলন ঘটে। এভাবে যখন দুটি কোষের মিলনে নিউক্লিয়াসের মিলন না ঘটে শুধু সাইটোপ্লাজমের মিশ্রণ ঘটে তখন তাকে সাইব্রিড(cybrid) বলে। প্রোটোপ্লাস্ট মিলনের মাধ্যমেই সাইটোপ্লাজমের বিশেষ গুণ স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ স্থানান্তর ঘটিয়ে নতুন জাতের উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। আলু ও টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন করে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদের নাম দেয়া হয়েছে পোমাটো। ৫| মেরিস্টেম কালচারঃ মেরিস্টেম কালচার টিস্যু কালচার প্রযুক্তির আরেকটি বিশেষ দিক। উদ্ভিদের শীর্ষ মুকুলের অগ্রভাগের টিস্যুকে মেরিস্টেম বলে। মেরিস্টেম কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত চারা গাছ সাধারণত রোগ মুক্ত হয়ে থাকে। কারণ মেরিস্টেম টিস্যুতে কোন রোগ জীবাণু থাকে না। ৬| অল্প সময়ে অধিক চারা উৎপাদনঃ টিস্যু কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি মাত্র উদ্ভিদ থেকে অসংখ্য চারা উৎপাদন করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় চন্দ্রমল্লিকার একটি ছোট্ট অঙ্গজ টিস্যু থেকে বছরে লক্ষ-লক্ষ চারা উৎপাদন করা সম্ভব। ৭| হ্যাপ্লয়েড লাইনঃ পরাগরেণু এবং পরাগধানী কালচারের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ সমূহ উদ্ভিদ প্রজনন এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত হোমোজাইগাস লাইন পাওয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। কিন্তু পরাগরেনু বা পরাগধানী কালচারের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপন্ন করা সম্ভব হলে তা থেকে সহজেই ইপ্সিত ডিপ্লয়েড উদ্ভিদ পাওয়া যায়। Poaceae, Solanaceae ও Brassicaceae গোত্রের হ্যাপ্লয়েড লাইন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ৮| কোষ আবাদ ও ক্যালাস টিস্যু আবাদঃ কোষ আবাদ ও ক্যালাস টিস্যু আবাদ কৌশলের মাধ্যমে একদিকে ও দৈহিক ভ্রুণ ও অন্যদিকে অনুচারা (planlet) ও সোমাকক্লোনাল ভেরিয়েশন কাজে লাগিয়ে উন্নত জাত যেমন গম (AdhI) উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
HSC Biology 1st Paper Chapter 8: টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 8: টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র · সৃজনশীল
উদ্ভিদ প্রজননে উদ্দীপকের 'A প্রযুক্তির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক

Comilla · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
চিত্রঃ রিকম্বিনেট DNA সৃষ্টি।উত্তর