উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থানের খনিজ দুটি হলো বাংলাদেশের দিনাজপুরের কয়লা ও সিলেটের প্রাকৃতিক গ্যাস।
ব্যবহারিক গুরুত্বের দিক থেকে উল্লিখিত খনিজ দুটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন-
কয়লা: কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া থেকে উত্তোলিত কয়লার ৬৫ শতাংশ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ ইটভাটা, কলকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে কাঠের লাকড়ির বিকল্প হিসেবে বনজ সম্পদ রক্ষায় কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস: প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানায় ও ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ঘোড়াশালের সার কারখানায় তিতাস গ্যাস কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কীটনাশক, ওষুধ, রাবার, প্লাস্টিক, কৃত্রিম তন্তু প্রভৃতি তৈরির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস তেলের পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন- সিদ্ধিরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও গৃহস্থালি, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষির উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস, সরকারি আয়ের উৎস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই খনিজ দ্রব্যগুলো যথেষ্ট অবদান রাখে। এজন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উক্ত খনিজদ্বয়ের তাৎপর্য অপরিসীম।