উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' ও 'খ' স্থানের খনিজদ্বয় হলো যথাক্রমে খনিজ তেল ও লৌহ আকরিক। নিচে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে খনিজদ্বয়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ দ্বিতীয়টি নেই। স্বল্প কয়েকটি দেশ তেল সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং তেলের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ও বহুমুখী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খনিজ তেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকারেই রপ্তানি করা হয়। অপরিশোধিত খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, মেক্সিকো প্রভৃতি প্রধান। আর আমদানিকৃত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, ইতালি, ভারত ইত্যাদি প্রধান। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো খনিজ তেল। মধ্যপ্রাচ্যের জিডিপির ৫০-৬০%, আসে - তেল রপ্তানি মাধ্যমে।
অন্যদিকে, লৌহ আকরিকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খুবই ব্যাপক ও বিস্তৃত। যে সকল দেশ লৌহ আকরিক রপ্তানি করে সে দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, বেলজিয়াম, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া প্রধান। আর যে সকল দেশ লৌহ আকরিক আমদানি করে সে দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, লুক্সেমবার্গ, লাইবেরিয়া প্রভৃতি অন্যতম। বর্তমান যান্ত্রিকসভ্যতার ভিত্তি হলো লৌহ আকরিক। কোনো দেশের কৃষি, শিল্প, পরিবহন, যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসায়-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক উন্নতি লৌহ আকরিকের ওপর যথেষ্ট নির্ভরশীল। এ কারণে লৌহ আকরিক উত্তোলনে প্রসিদ্ধ দেশগুলো অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যথেষ্ট উন্নত।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, 'খনিজ তেল ও লৌহ আকরিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে