HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
রিমা ও সবিতা ঢাকাতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। ঢাকাতে গ্যাসের চুলাতে গ্যাস পাইপের মাধ্যমে সংযোগ ছিল। গৃহকর্মে গ্যাস ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তারা কাতারে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দেখলো ওখানে সকলে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে। কিন্তু তারা জেনেছে ঐ দেশে গ্যাসের মজুদ অনেক বেশি।
Dinajpur · 2017
ক
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কয়লা উৎপাদন করে কোন দেশ?
উত্তর
কপৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কয়লা উৎপাদন করে চীন।
খ
সিলেটে গ্যাস প্রাপ্তির আধিক্যের কারণ লেখো।
উত্তর
সিলেটে গ্যাস প্রাপ্তির আধিক্যের কারণ হলো অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থান।
টারশিয়ারি যুগে গঠিত সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে অধিক পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যায়। যা নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালার অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলে ভূ- অভ্যন্তরের শিলাস্তরের নিচে উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহাবশেষ জমা হয়ে এ গ্যাস প্রচুর পরিমাণে সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ অঞ্চলে অধিক গ্যাস পাওয়া যায়।
গ
রিমা ও সবিতার বৈদেশিক কর্ম এলাকা ও তার পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের প্রাকৃতিক গ্যাস মানচিত্র দেখাও।
উত্তর
উদ্দীপকের রিমা ও সবিতার বৈদেশিক কর্ম এলাকা হলো কাতার। প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে এ দেশটি মধ্যপ্রাচ্য বলয়ের অন্তর্ভুক্ত। এ এলাকার প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ অন্যান্য দেশগুলো হলো- ইরান, সৌদি আরব, ইরাক, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রভৃতি। নিচে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক গ্যাসের মানচিত্র আঁকা হলো -


ঘ
রিমা ও সবিতার নিজদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উক্ত খনিজের দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার কিভাবে নিশ্চিত কর যায়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।
যেকোনো সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করতে হলে এর সংরক্ষণ খুবই জরুরী। যেহেতু প্রাকৃতিক গ্যাস একটি অনবায়নযোগ্য সম্পদ সেহেতু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্যতার জন্য এর সংরক্ষণও জরুরি। ব্যবহারে বাহুল্য হ্রাস, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংরক্ষণ সম্ভব। নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে করণীয় বিশ্লেষণ করা হলো-
ব্যবহারের বাহুল্য হ্রাসকরণ: অতিমাত্রায় সম্পদ ব্যবহার করলে এর দ্রুত বিনাশ ঘটবে। তাই প্রয়োজনভিত্তিক উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পদের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
বিকল্প দ্রব্যের ব্যবহার: ক্ষয়িষ্ণু সম্পদের ব্যবহার কমিয়ে প্রবাহমান সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি করলে সম্পদ সংরক্ষিত হবে। যেমন- বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তি (পানি, সূর্যের আলো ইত্যাদি) ব্যবহার করা।
অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবহার: অল্প ব্যবহারে অধিকতর প্রয়োজন মিটবে এরূপ উদ্দেশ্য খনিজ সংরক্ষণের সহায়ক হয়। যেমন- বিদ্যুৎ উৎপাদনে খনিজ তেল ব্যবহার না করে পরিবহন কাজে ব্যবহার করলে খনিজ তেলের সাশ্রয় হয়।
অপচয় বন্ধ করা ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার: খনিজ উৎপাদন ও ব্যবহারের সময় যাতে অপচয় না হয় তা লক্ষ করতে হবে। যেমন- বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখা যায় না। কিন্তু কয়লা সঞ্চয় করে রাখা যায়।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি: কারিগরি উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পেলে অপেক্ষাকৃত অল্প কাঁচামালে অধিক পরিমাণ শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব।
সম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রাকৃতিক গ্যাস সীমাহীন নয়। এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সকল স্তরের অর্থনৈতিক কাজকর্মে সংরক্ষণ ও উৎকর্ষ সাধন সম্ভব হবে।
উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথ পালনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো


