উদ্দীপকে খনিজ সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নিচে বিভিন্ন অধাতব খনিজের ব্যাখ্যা করা হলো-
ক. চুনাপাথর: এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি খনিজ। বাংলাদেশের সিলেট ও বগুড়া অঞ্চলে চুনাপাথর সঞ্চিতির সন্ধান পাওয়া গেছে। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত সংলগ্ন বাগলীবাজার, লালঘাট এবং টাকেরঘাট নামক স্থানে স্বল্প গভীরতায় চুনাপাথরের ক্ষেত্র রয়েছে। বগুড়া অঞ্চলের জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে এবং নওগাঁর পত্নীতলায় অবস্থিত চুনাপাথর ক্ষেত্র অধিক গভীরতায় অবস্থিত। এছাড়া নওগাঁর বাদলগাছি উপজেলায় গভীরতার এ খনিজটির সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ সেন্টমার্টিনে চুনাপাথর সঞ্চিত রয়েছে। আমাদের দেশে চুনাপাথরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। ঘর নির্মাণে, সিমেন্ট প্রস্তুতিতে, গ্লাস ও কাগজ শিল্পে এবং সাবান ও ব্লিচিং পাউডার তৈরিতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়।
খ. কঠিন শিলা: বাংলাদেশের রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর এবং রংপুর অঞ্চলে কঠিন শিলাক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। দিনাজপুর এবং রংপুর অঞ্চলের কঠিন শিলাক্ষেত্র স্বল্প গভীরতায় অবস্থিত বিধায় এখানকার শিলাক্ষেত্র বাণিজ্যিক উত্তোলনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশে রেলপথ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং বাঁধ ও সেতু নির্মাণে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।
গ. চীনা মাটি: ময়মনসিংহের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন বিজয়পুরে ১৯৫০- এর দশকে শ্বেত মৃত্তিকার সন্ধান পাওয়া যায়। গারো পাহাড় সন্নিহিত এই শ্বেত মৃত্তিকার স্তর পার্শ্ববর্তী পলল গঠিত সমভূমি এলাকা থেকে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত। এই ক্ষেত্র থেকে শ্বেত মৃত্তিকা উত্তোলিত হয়ে থাকে। যেমন- শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় চীনা মাটির সন্ধান পাওয়া গেছে। বাসনপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি (প্লেট, টাইলস), বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, সেনিটারি সরঞ্জাম, কাগজ ও বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক শিল্পে (সিরামিকস্) চীনামাটি ব্যবহৃত হয়।
ঘ. কাঁচবালি: বাংলাদেশের সিলেট জেলার লালঘাট, শাহজিবাজার, ছাতিয়া, শেরপুরের বালিয়াজুরী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় বেলে পাথর ও কাঁচবালি সঞ্চিত রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কাঁচ প্রস্তুতিতে, রাসায়নিক দ্রব্য, রং ও অগ্নিরোধক ইট তৈরিতে কাঁচবালি ব্যবহৃত হয়।
ঙ. তেজস্ক্রিয় বালি: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতে মোনাজাইট, জিরকন, ইলমেনাইট, ব্যাটাইল প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় খনিজ উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে। সাধারণ বালি থেকে এসব ভারি খনিজ পৃথক করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার করা সম্ভব। ইস্পাত ও সিরামিক শিল্প, আণবিক চুল্লিতে এ ধরনের খনিজের ব্যবহার দেখা যায়।
চ. খনিজ লবণ: বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্তত তিনটি ঝরণার সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলোর পানি লবণান্ত। সমুদ্রের পানি থেকে এ দেশে বহু প্রাচীনকাল থেকে খাদ্য লবণ আহরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, বরগুনা প্রভৃতি এলাকায় সমুদ্রের পানি থেকে লবণ আহরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। চামড়া সংরক্ষণ, কষ্টিক সোডা প্রস্তুতিতে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক শিল্পে এই লবণের চাহিদা রয়েছে। খাদ্য, ওষুধ, সার ও রাসায়নিক শিল্পে এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে খনিজ লবণ ব্যবহৃত হয়।