উদ্দীপকে শামীমের পাঠানো খনিজটি আকরিক লৌহ, যা অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পৃথিবীর সবদেশে কমবেশি আকরিক লৌহ পাওয়া গেলেও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় বিশ্বে মাত্র কয়েকটি দেশ খনি হতে আকরিক লৌহ উত্তোলন করে। নিচে পৃথিবীর প্রধান আকরিক লৌহ উৎপাদনকারী দেশসমূহের মজুদ ও উৎপাদনের পরিমাণ দেখানো হলো-
১. অস্ট্রেলিয়া: আকরিক লৌহ উৎপাদনে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বে প্রথম। ২০১৯ সালে এদেশের মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ৯১৯ মিলিয়ন টন। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নিউসাউথ ওয়েলসের আয়রন মোনার্ক অঞ্চলে দেশটির প্রধান লৌহ খনিগুলো অবস্থিত।
২. ব্রাজিল: আকরিক লৌহ উৎপাদনে ব্রাজিল বিশ্বে দ্বিতীয়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিগুলো থেকে ব্রাজিল প্রচুর পরিমাণে আকরিক লৌহ উত্তোলন করে। ২০১৯ সালে দেশটির উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪০৫ মিলিয়ন টন।
৩ চীন: চীন বিশ্বের তৃতীয় আকরিক লৌহ উৎপাদনকারী দেশ। ২০১৯ সালে চীনে প্রায় ৩৫১ মিলিয়ন-টন লৌহ উৎপাদিত হয়। দেশটির মাঞ্জুরিয়ার মুকুদেন, সান্টুং উপদ্বীপ, ইয়াংসিকিয়াং নদীর • নিম্নাংশ, হোনান, হোপাই, সানটাং, সানবি প্রভৃতি অঞ্চল আকরিক লৌহ উৎপাদনে প্রসিদ্ধ।
৪. ভারত: আকরিক লৌহ উৎপাদনে ভারতের স্থান বর্তমান বিশ্বে চতুর্থ। ২০১৯ সালে ভারতে প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন টন আকরিক লৌহ উৎপাদিত হয়। এদেশের লৌহ খনিগুলো উড়িষ্যা, বিহার, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং মধ্য প্রদেশে অবস্থিত।
৫. রাশিয়া: বিশ্বে পঞ্চম প্রধান আকরিক লৌহ উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। ২০১৯ সালে এদেশে প্রায় ৯৭ মিলিয়ন টন আকরিক লৌহ উৎপাদিত হয়। এদেশের ইউরাল পার্বত্য অঞ্চলের ম্যাগনিটোগস্ক, মুরমানস্ক, উরলের ওরস্ক, মস্কোর দক্ষিণে কুরস্ক, টুলা ও মোরকস্ক, লেনিনগ্রাড, বৈকাল হ্রদ প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর আকরিক লৌহ উৎপাদিত হয়।
৬. অন্যান্য দেশ: উপরিউক্ত দেশগুলো ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউক্রেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, ভেনিজুয়েলা, মেক্সিকো, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি, নরওয়ে, গ্রিস, অস্ট্রিয়া, ফিলিপাইন, লাইবেরিয়া, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, মরক্কো প্রভৃতি দেশ আকরিক লৌহ উৎপাদন করে থাকে। এ দেশগুলো ২০১৯ সালে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন টন আকরিক লৌহ উৎপাদন করে।