উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা খনিজ তেল এবং 'খ' দ্বারা কয়লাকে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে উক্ত দুটি খনিজ সম্পদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আধুনিক সভ্য জগতে খনিজ তেল একটি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। শক্তি, আলো, তাপ উৎপাদনের জন্য তেল প্রয়োজনীয়। খনিজ তেল পরিশোধিত করে গ্যাসোলিন, ডিজেল গ্যাস, কোরোসিন, পিচ্ছিল কারক তেল, প্যারোফিন প্রভৃতি পাওয়া যায়। রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, জাহাজ বিমান ইত্যাদি চালাতে পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশের তেলক্ষেত্রগুলো হতে তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে উত্তোলিত হলে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব। এ ছাড়া এককভাবে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীরতা হ্রাস করা যাবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হলো কয়লা। কয়লা জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ও লাকড়ির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমানে বড় পুকুরিয়া থেকে উত্তোলিত কয়লার ৬৫ শতাংশ বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে ইটভাটা; কলকারখানাসহ অন্যান্য খাতে। বনজ সম্পদ রক্ষায় কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরাসরি কাঠ বা লাকড়ি পোড়ালে পরিবেশের যে দূষণ হয় কয়লা ব্যবহার কররে সেই দূষণ হয় না। বনজ সম্পদ রক্ষা ও দূষণ রোধে কয়লা প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করে।
সুতরাং বলা যায় যে, কৃষির উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস, সরকারি আয়ের উৎস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উক্ত খনিজ দুটি যথেষ্ট অবদান রাখে। শিল্প কারখানার উন্নতি, রাস্তাঘাটের উন্নতি উভৃতি ক্ষেত্রে খনিজ সম্পদ দুটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে।