উদ্দীপকে সেলিমের নিজ অঞ্চল হলো মধ্যাঞ্চল যা ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি এবং এমিল চাকমার নিজ অঞ্চল হলো দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল যা ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। নিচে এ দুই অঞ্চলের বনভূমির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
সেলিমের অঞ্চলটি বাংলাদেশের ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমির অন্তর্গত। বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এই বনভূমি রয়েছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে যেসব গাছের পাতা বছরে একবার সম্পূর্ণ ঝরে যায় সেগুলোকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছ বলা হয়। এই বনভূমি অঞ্চলে শাল, কড়ই, হিজল, বহেরা, হরিতকি, কাঁঠাল, নিম প্রভৃতি বনজ সম্পদ দেখা যায়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি অবস্থিত। এ বনভূমির আয়তন প্রায় ১৫,৩২৬ বর্গকিলোমিটার। বেলে পাথর ও কর্দম শিলা হতে গঠিত বাংলাদেশের পাহাড়ি মৃত্তিকায় পরিমিত উত্তাপ (৩৪° সে.), অত্যধিক বৃষ্টিপাত (৩০০ সেন্টিমিটারের বেশি), স্বল্প জনবসতি, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিদ্যমান থাকায় এ বনভূমি গড়ে উঠেছে। পাহাড়ি বনভূমিতে বহু মূল্যবান বৃক্ষ জন্মে থাকে। চিরহরিৎ বৃক্ষের মধ্যে চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি প্রধান। বন্য পশুর মধ্যে হাতি, হরিণ, চিতাবাঘ, বাইসন, বন্য কুকুর প্রভৃতি প্রধান। এসব জন্তুর চামড়া, শিং, দাঁত খুবই মূল্যবান। অন্যান্য, বনজ সম্পদের মধ্যে বাঁশ, বেত, ঔষধি গাছ, মোম, মধু ইত্যাদিও বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত দুটি অঞ্চলের বনভূমির মধ্যে গঠনগত পার্থক্য রয়েছে।