উদ্দীপকে 'ক' চিত্রটি হলো চ্যুতি স্তুপ পর্বত এবং 'খ' চিত্রটি হলো ভঙ্গিল পর্বত। এ দুটি পর্বতের গঠনগত ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের স্থানচ্যুতি ঘটে। ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কখনও নিম্নগামী হয়। চ্যুতি বরাবর ঊর্ধ্বগামী শিলাস্তূপকে স্তূপ পর্বত বলে। এ ধরনের পর্বতের অন্তত একপাশে উঁচু কোণবিশিষ্ট স্বাভাবিক চ্যুতি থাকে। ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠে যে টানজনিত চাপ পড়ে তাতে ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়। ভূত্বকের স্থান চ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিম্নগামী হয়। এ পর্বতের ঢাল খুব খাড়া, এর চূড়া সাধারণত চ্যাপ্টা আকৃতির হয়, ব্ল্যাক ফরেস্ট, ভোজ, নীলগিরি ও আন্ন্যামালি এ পর্বতের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, পাত ভূগঠন মতবাদ অনুযায়ী পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে বিভিন্ন পাতের চলনই ভঙ্গিল পর্বতসমূহ সৃষ্টির প্রধান কারণ। বর্তমানে যেসব অঞ্চলে ভঙ্গিল পর্বতগুলো অবস্থিত অতীতে সেসব অঞ্চলে অবস্থান করত বিশাল আয়তনের অগভীর সমুদ্র বা মহীখাত কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঐসব মহীখাতের তলদেশে পলি সঞ্জিত হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়। ক্রমাগত পলি জমার ফলে ঐসব মহীখাতের তলদেশ ক্রমশ নিচের দিকে নেমে যায়। পার্শ্ববর্তী পাতগুলো পরস্পর নিজেদের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে' প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হয়। তখন মহীখাতের তলদেশের নরম পাললিক শিলাস্তর সংকুচিত হয় এবং ঢেউয়ের আকারে উঁচুনিচু হয়ে ভঙ্গিল পর্বতের আকৃতি ধারণ করে। ভঙ্গিল পর্বতের শিলাসমূহ স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে। এ পর্বত স্তরযুক্ত নরম পাললিক শিলায় গঠিত। হিমালয়, আল্পস, কার্বথিয়ান প্রভৃতি ভঙ্গিল পর্বত।