চিত্রের 'খ' ও 'গ' চিহ্নিত স্তর দুটি যথাক্রমে গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। বৈশিষ্ট্যগতভাবে এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় যা নিচে আলোচনা করা হলো-
অশ্মমণ্ডলের নিচের স্তরকে গুরুমণ্ডল বলে। গুরুমণ্ডল স্তরের গভীরতা ১৫ কিমি. থেকে ২,৮৮৫ কিমি পর্যন্ত। এটি মূলত ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত। গুরুমণ্ডলকে বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডল এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বহিঃগুরুমণ্ডল স্তরটি ১০০ কিমি. থেকে ৭০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্তঃগুরুমণ্ডল স্তরটি ৭০০ কিমি. থেকে ২,৮৮৫ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
অন্যদিকে পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কিমি. ব্যাসার্ধের এক গোলক অবস্থিত। এ গোলকটির নাম কেন্দ্রমণ্ডল। কেন্দ্রমণ্ডলটি গুরুমণ্ডল (২৮৮৫ কিমি) থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র (৬,৩৭১ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত। গুটেনবার্গ বিযুক্তি থেকে এর গভীরতা ৩,৪৮৬ কিমি। এর মূল উপাদান নিকেল ও লোহা। তবে পারদ ও সিসার মতো ভারী ধাতুও কেন্দ্রমণ্ডলে বিদ্যমান। এর তাপমাত্রা স্থানভেদে ৩,০০০°-৫,০০০° সে. বা তারও বেশি।
এ থেকে বোঝা যায়, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমন্ডলের বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা আছে।