উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' চিহ্নিত স্তর হলো গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। অবস্থানগত কারণে 'খ' ও 'গ' স্তরের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
গুরুমণ্ডল স্তরের গভীরতা ১৫ কিমি. থেকে ২৯০০ কি.মি. পুরু। এ স্তরটি প্রায় ২,৮৮৫ কিমি পুরু। এর ঊর্ধ্বাংশের শিলা কঠিন ও ভঙ্গুর যা ১০০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। গুরুমণ্ডলের উপরের অংশ প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। তবে এ স্তরটি সিলিকন (Si), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), লোহা (Fe), কার্বন (C) প্রভৃতি উপাদানে গঠিত। এগুলোর মধ্যে প্রধান উপাদান সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম। এটি পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৮২.২৫ শতাংশ দখল করে আছে এবং এর ওজন পৃথিবীর মোট ওজনের শতকরা প্রায় ৬৮ শতাংশ .। গঠন উপাদানের গুরুত্বের তারতম্য অনুসারে এ মণ্ডলকে দুটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা- বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডল।
অপরদিকে, কেন্দ্রমণ্ডল স্তরটি গুরুমণ্ডলের নিচে অবস্থিত। অর্থাৎ ২,৮৮৫ থেকে ৬,৩৭১ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা (গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের সংযোগস্থলকে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা বলে) থেকে এর গভীরতা ৩,৪৮৬ কিলোমিটার। বিজ্ঞানীদের ধারণা এ মণ্ডলটি লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ মণ্ডলটি পৃথিবীর মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ১৬.২ ভাগ স্থান দখল করলেও এর ওজন পৃথিবীর মোট ওজনের শতকরা ৩১.৫ ভাগ। এই স্তরের ঘনত্ব ১১.৮ - ১৩.৬ কি.গ্র./ঘনমিটার। P তরঙ্গের গতিবেগ বহিঃকেন্দ্রে ১০.৩ কি.মি./সে. থাকলেও অন্তঃকেন্দ্রে এ গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.২ কি.মি./সে. পর্যন্ত হয়।