উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলগুলো হলো সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি এবং টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে 'ক' অঞ্চল তথা সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি কৃষিকাজের জন্য অধিক উপযোগী। টারশিয়ারি যুগের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, পাহাড়ি এলাকাগুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এখানকার পার্বত্যভূমি কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী নয়। স্থানীয় অধিবাসিগণ জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে। এ পদ্ধতিতে কোনো স্থানে জঙ্গল কেটে চাষাবাদ করা হয় এবং কয়েক বছর চাষাবাদ করার পর উক্ত জমি ত্যাগ করে অন্যস্থান পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা হয়। এ ধরনের চাষাবাদ পদ্ধতিই 'জুম চাষ' নামে পরিচিত। পার্বত্য অঞ্চলে ধান, চা, রাবার, আনারস, বাঁশ, বেতের চাষ হলেও সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলের ভূমি কৃষি অনুপোযোগী। বাংলাদেশের সমগ্র ভূভাগের ৮০% ভূভাগ নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমি দ্বারা গঠিত; যা সাম্প্রতিককালের সৃষ্টি হয়েছে। নদী দ্বারা চিত্রের 'ক' চিহ্নিত অঞ্চল তথা কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ অঞ্চলের ভূমিগুলো সৃষ্টি হয় বলে বেশিরভাগ ভূমিতেই পলি জমা হয় এবং ভূভাগগুলো উর্বর প্রকৃতির হয়। তাছাড়া এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির অধিকাংশই প্রায় সমতল ধরনের। মাটির উর্বরতা ও সমতল ভূমির কারণে এসব ভূমিতে কৃষিকাজের অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের চাষাবাদ করা যায়। খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা প্রভৃতি অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট, ইক্ষু প্রভৃতি চাষ করা হয়। কৃষিকাজের সাথে এ অঞ্চলের মানুষগুলো তাদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। কৃষির সাথে সম্পৃক্ত যেসব কর্মকাণ্ড যেমন- আবাদি জমিতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য ও উন্নত জাতর ফলমূল চাষাবাদ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছে।'
তাই বলা যায়, টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির মধ্যে কৃষিকাজের জন্য সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিই অধিক উপযোগী।