উদ্দীপকে 'ক' অংশে নির্দেশিত ভূমিরূপটি হলো পলল সমভূমি। এটি একটি সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ। সাধারণত নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে ভূপৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমভূমি গঠিত হয়। এরূপ পলিগঠিত সমভূমিকে পলল সমভূমি বলে। সঞ্চয়ের স্থানভেদে এ জাতীয় সমভূমি তিন প্রকারের। যথা (i) পাদদেশীয় পলল সমভূমি, (ii) প্লাবন সমভূমি ও (iii) বদ্বীপ সমভূমি।
নদী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সমভূমিতে নেমে আসলে নদীর স্রোতের গতিবেগ হঠাৎ হ্রাস পায়। ফলে নদীর বহন ক্ষমতাও অনেক কমে যায়। এ পর্যায়ে নদীবাহিত মোটা দানার পলি, কাঁকর, বোল্ডার ইত্যাদি পাহাড়ের পাদদেশে ব্যাপক সঞ্চিত হয়ে পললপাখা, পলন কোণ, বাজাদা প্রভৃতি গঠন করে এবং এগুলো একসাথে মিলিত হয়ে পাদদেশীয় পলল সমভূমি আকার ধারণ করে।
অন্যদিকে নদীর বন্যার সময় স্রোতের সাথে পলি, বালু, কাঁকর প্রভৃতি তার গতিপথের দুই পাশের অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিতে জমা হয়ে প্লাবন সমভূমির সৃষ্টি করে। প্লাবন সমভূমির বিস্তার নির্ভর করে নদী অববাহিকা অঞ্চলের প্রকৃতি ও বন্যার ব্যাপকতার ওপর। সাধারণত পর্বত পাদদেশ থেকে যতই সমুদ্রের দিকে যাওয়া যায় ততই প্লাবন সমভূমির বিস্তার বাড়তে থাকে।
পলল সমভূমির আরেকটি অংশ হলো বদ্বীপ সমভূমি। নদীবাহিত বালি, পলি, কাঁকর প্রভৃতি নদীর মোহনায় সঞ্চিত হতে হতে গভীর সমুদ্রে যে সমভূমির সৃষ্টি করে তাকে বদ্বীপ সমভূমি বলে। এটি নদীর গতিপথের শেষ পর্যায় তথা বার্ধক্য পর্যায়ে সঞ্চয়ের ফলে ব-আকৃতির সমভূমির সৃষ্টি করে।
সুতরাং বলা যায় যে, উল্লিখিত পলল সমভূমিগুলো নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতির মাধ্যমে নদীর গতি প্রবাহ ও মৃত্তিকার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এরূপ সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের সৃষ্টি করেছে।