উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' ভূমিকাটি হলো সঞ্চয়জাত সমভূমি। উক্ত ভূমিরূপের সঞ্চয়জাতের ধরন বিশ্লেষণ করা হলো-
নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির দ্বারা পলি, কাঁকর, বালুকণা, ধূলিকণা প্রভৃতি কোনো নিম্ন অঞ্চলে সঞ্চিত হতে হতে কালক্রমে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে সঞ্চয়জাত সমভূমি বলে। প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা এজাতীয় সমভূমি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-পলল সমভূমি, হৈমবাহিক সমভূমি, লোয়েস সমভূমি, হ্রদ সমভূমি, লাভা সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি প্রভৃতি।
পলল সমভূমি নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়। এটি পাহাড়িয়া অঞ্চলের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে পাদদেশীয় পলল সমভূমির সৃষ্টি করে। আবার নিম্নভূমিতে সঞ্চয়ের ফলে প্লাবন সমভূমি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সঞ্চিত হওয়ার ফলে বদ্বীপ সমভূমির রূপধারণ করে।
কিছু সমভূমি রয়েছে যেগুলো পর্বতের হিমগলে যাবার ফলে সৃষ্টি হয়। যেমন-হিমালয় পর্বতের হিমরেখার নিচে নেমে গলবার ফলে গলিত পানিধারা কাদা, বালি, নুড়ি, কাঁকর প্রভৃতি বহন করে বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী সঞ্চিত করে হৈমবাহিক সমভূমির সৃষ্টি করে।
শুধু নদী দ্বারা বাহিত পদার্থসমূহ সঞ্চয়েই সমভূমি গঠন করে না, বায়ু দ্বারাও সমভূমি সৃষ্টি করে যাকে লোয়েস সমভূমি বলে। এ ধরনের সমভূমির ক্ষেত্রে দেখা যায় বায়ুর একস্থানের সূক্ষ্ম ধূলিকণা, বালুকণা প্রভৃতি বহন করে অন্য কোনো স্থানে সঞ্চয়ের ফলে সমভূমির সৃষ্টি করে।
এছাড়া নদীবাহিত ধূলি, রালি, পলি, কাঁকর ও অন্যান্য আবর্জনা হ্রদের তলদেশে জমাট হয়ে হ্রদ সমভূমি গঠন করে।
অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো কোনো স্থানে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা সঞ্চিত হয়ে লাভা সমভূমি গঠন করে।
আরেক ধরনের সঞ্চয়জাত সমভূমি রয়েছে যা উপকূলীয় অঞ্চলে তথা মহাদেশসমূহের প্রান্তভাগে সৃষ্ট হয় 'যা উপকূলীয় সমভূমি নামে পরিচিত। এধরনের ভূমি ভূআন্দোলনের ফলে কিংবা সমুদ্রস্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়।
সুতরাং উপরিউক্ত সঞ্চয়জাত সমভূমি পর্যালোচনা করে বলা যায়, বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পদার্থের সঞ্চয়ের ফলে উল্লিখিত বৈচিত্র্যময় সমভূমির সৃষ্টি করে।