উদ্দীপকের 'পর্বত-খ' বলতে ভঙ্গিল পর্বত এবং 'পর্বত-গ' বলতে। সায়জাত বা আগ্নেয় পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে পর্বত দুটির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
• মহাদেশীয় পাতগুলোর পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে গতিশীল হয়ে পড়লে প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি করে ভূত্বকের উপরের পাললিক শিলাস্তর ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সত্রিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি হয়।
• ভঙ্গিল পর্বতের ক্ষেত্রে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা ক্ষয় হয় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থসমূহ পলির আকারে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। পক্ষান্তরে, আগ্নেয় পর্বতের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ লাভা, নানা প্রকার গ্যাস, বাষ্প, ছাই, ধাতু প্রবলবেগে বাইরে বের হয়ে আসে।
• ভঙ্গিল পর্বতের ক্ষেত্রে পার্শ্বচাপের কারণে শিলাসমূহ উঁচু হয়। অন্যদিকে আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে অভ্যন্তরীণ পদার্থসমূহের বাইরে বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাতসমূহের গতিশীলতায় সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট লাভাসমূহের সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়।
• হিমালয়, আল্পস পর্বত হলো ভঙ্গিল পর্বত। অনাদিকে ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো, হাওয়াই দ্বীপের মনলোয়া আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের উল্লিখিত দুটি ভূমিরূপ পর্বত হলেও প্রত্যেকের মধ্যে সৃষ্টিগত পার্থক্য বিদ্যমান।