উদ্দীপকের 'ক' ও 'গ' হলো যথাক্রমে বরেন্দ্রভূমি এবং সাম্প্রতিককালের প্লাবনসমভূমি। এ দুই অঞ্চলের ভূমিরূপের মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চল বরেন্দ্রভূমির অন্তগর্ত। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বরেন্দ্রভূমির আয়তন ৩,৬০০ বর্গ মাইল বা ৯,২৮৮ বর্গ কিমি.। এ অঞ্চল প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় (৬-১৩) মিটার উঁচু হয়ে থাকে। এ অঞ্চলটি প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি। সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলই পুনর্ভবা, আত্রাই ও যমুনা নদী দ্বারা চারটি অংশে বিভক্ত। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে অথবা হলুদ লালচে। এখানে আঁকাবাঁকা ছোট ছোট কয়েকটি স্রোতস্বিনী নদী রয়েছে যেগুলো গভীর খাতবিশিষ্ট যা খাড়ি নামে পরিচিত। এ অঞ্চল কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী। ধান, পাট, ভুট্টা, পান প্রভৃতি এ অঞ্চলের ফসল। তবে ধান হলো এ অঞ্চলের প্রধান ফসল।
অপরূিকে, বাংলাদেশের প্রায় ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন ভূমি দ্বারা আবৃত। বিশেষ করে উদ্দীপকের 'গ' চিহ্নিত অঞ্চল অর্থাৎ কুষ্টিয়া মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদাহ, যশোর, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর প্রভৃতি অঞ্চল পলি সমৃদ্ধ হয়ে প্লাবন ভূমি গঠন করেছে। তাই এসব অঞ্চলের মাটি ব্যাপকভাবে কৃষি উপযোগী। এছাড়া এসব অঞ্চলে ছোট বড় বন্ধু বদ্বীপ গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চল, পদ্মা, কপোতাক্ষ,আরিয়াল খাঁ, ভদ্রা মধুমতি প্রভৃতি নদী বেষ্টিত।