উদ্দীপকে ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলা হয়েছে। জনজীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
বঙ্গপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে গ্রীষ্ককালে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে অনেক ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির-প্যাগোডা, হাট-বাজারের স্থায়ী ঘর, গাছপালা প্রভৃতি ভেঙে যায়। এছাড়া উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের ফলে কাঁচাঘর, রাস্তা, কালভার্ট ভেঙে যায়। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে। এ কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের অত্যধিক বাতাসের ফলে ফসল দুমড়ে মুচড়ে পড়ে। ফলে খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। উপদ্রুত এলাকায় প্রায় জনশূন্যতার সৃষ্টি হলে অন্য এলাকা থেকে আসা অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন প্রভৃতি অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।
এছাড়াও খাবার পানির অভাব, সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার, খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট, দারিদ্র্য, অপুষ্টি প্রভৃতি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ৩ থেকে ২০ কিমি. পর্যন্ত লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত করে। ফলে পুকুর ও জলাশয়ের মাটি লবণাক্ত হয়ে পড়ে এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়।