'খ' ও 'গ' ভূমিরূপ দুটি যথাক্রমে ক্ষয়জাত পর্বত ও আগ্নেয় পর্বত 1
পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পর্বতের নরম শিলাসমূহ যান্ত্রিক উপায়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত পর্বতের সৃষ্টি হয়। আর ভূত্বকের ফাটল বা ছিদ্রপথের মাধ্যমে ভূঅভ্যন্তরের গলিত উত্তপ্ত লাভা উপরের ওঠার পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত সৃষ্টি হয়। আগ্নেয় পর্বত ও ক্ষয়জাত পর্বতের মধ্যে অনেক পার্থক্য লক্ষ করা যায়। নিচে তা আলোচনা করা হলো-
আগ্নেয় পর্বত শুধু আগ্নেয়শিলার দ্বারাই গঠিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ, একই জাতীয় শিলা দ্বারা গঠিত। পক্ষান্তরে, সবধরনের পর্বত (ভঙ্গিল, স্তূপ, আগ্নেয়) ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত পর্বতের সৃষ্টি হয়, সে কারণে ক্ষয়জাত পর্বতে বিভিন্ন ধরনের শিলা পাওয়া যায়। আগ্নেয় পর্বতের আকৃতি অনেকটা শঙ্কুর মতো, তবে ক্ষয়জাত পর্বত সাধারণত চ্যাপটা আকৃতির হয়। আগ্নেয় পর্বত উঁচু প্রকৃতির হলেও ক্ষয়জাত পর্বত নিচু প্রকৃতির হয়ে থাকে। আগ্নেয় পর্বতের শিখরে এক বা একাধিক জ্বালামুখ নামে গহ্বর থাকে, যারা নলের মতো পথের মাধ্যমে ভূগর্ভের ম্যাগমা স্তরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। পক্ষান্তরে, ক্ষয়জাত পর্বতে কোনো জ্বালামুখ থাকে না। আগ্নেয় পর্বতের ঢাল সবসময় খাড়া হলেও ক্ষয়জাত পর্বতের ঢাল মৃদু বা কম হয়। আগ্নেয় পর্বতগুলো অপেক্ষাকৃত কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত। অপরদিকে ক্ষয়জাত পর্বত মূলত কঠিন ও কোমল শিলার সমন্বয়ে গঠিত।
সুতরাং বৈশিষ্ট্যগতভাবে ক্ষয়জাত পর্বত ও আগ্নেয় পর্বতের মধ্যে যথেষ্ট্য পার্থক্য লক্ষ করা যায়।