উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' জোয়ারের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর: 'ক' ও 'খ' এ প্রদর্শিত জোয়ারভাটা হলো ভরা কটাল ও মরা কটাল। নিচে এ দুই ধরনের জোয়ারের পার্থক্য তুলে ধরা হলো- জোয়ারভাটা সৃষ্টিতে চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যা তিথিতে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী প্রায় একই সরল রেখায় অবস্থান করে। আবার পূর্ণিমার সময় চপেরদিকে চন্দ্র থাকে এবং সমসূত্রেময় পৃথিবীর একদিকে সূর্য ও চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি একই সাথে কার্যকরী হয় এবং উভয়ের মিলিত সূর্য ও আকর্ষণ শক্তি প্রবল হয়। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার ঐ দুই দিন চন্দ্রের আকর্ষণে যে স্থানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণেও সেই স্থানে জোয়ার হয়। এ দুই দিন চন্দ্র সূর্যের মোহর্ষের আকর্ষণোকর্ষণের ফলে পৃথিবীর দুই দিকের জলরাশি খুব বেশি মাত্রায় ফুলে ওঠে এবং দুই জোয়ারের মধ্যে সমকোণী অংশে ভাটার পানি খুবই নেমে যায়। এ কারণে পর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারকে ভরা জোয়ার, ভরা কটাল বা তেজ কটাল বলে। অন্যদিকে, সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর দুই পার্শ্বে পরস্পরের সাথে সমকোণে অবস্থান করে পথিবীকে আকর্ষণ করে। ঐ দিন তারা পৃথিবীকে আড়াআড়িভাবে আকর্ষণ করে বলে আকর্ষণেরগে কমে যায়। সেই সময় চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্রের দিকে এবং তার বিপরীত দিকে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণেও সূর্যের দিকে এবং তার বিপরীত দিকে জোয়ার হওয়ার কথা। কিন্তু সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ শক্তি বেশি বলে চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্রের দিকে ও তার বিপরীত দিকে জোয়ার হয়। একই সাথে সূর্যের দিকে এবং সূর্যের বিপরীত দিকে ভাটা হয়। যে কারণে চন্দ্রের আকর্ষণে তার দিকে এবং তার বিপরীত দিকে জোয়ারের পানি ততবেশি ফুলে উঠতে পারে না। ফলে সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে জোয়ারের তীব্রতা সবচেয়ে কম থাকে। সেজন্য উক্ত দুদিনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে।তাই বলা যায় চন্দ্র ও সূর্যের অবস্থানগত পার্থক্যের কারণেই জোয়ারভাটার এ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
HSC Geography 1st Paper Chapter 8 : সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 8 : সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা · সৃজনশীল
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' জোয়ারের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? তোমার মতামতে…
উদ্দীপক
Rajshahi · 2021
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর

