উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মহাসাগরটি হলো আটলান্টিক মহাসাগর।
উক্ত মহাসাগরের উত্তর অংশের স্রোতসমূহ- উপসাগরীয় স্রোত, উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত, সুমেরু স্রোত, ল্যাব্রাডর স্রোত, গিনি স্রোত ও ইরমিনজার প্রভৃতি ব্যাখ্যা করা হলো।
দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের প্রধান শাখাটি নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূল দিয়ে অগ্রসর হয়ে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে। সেখানে পূর্বদিক হতে আগত উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের একটি শাখা স্রোত এর সাথে মিলিত হয়। এ মিলিত স্রোতটি কেইয়েন স্রোত নামে তথা হতে আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে। মেক্সিকো উপসাগর উৎপত্তি হয়ে বলে এ স্রোতের নাম উপসাগরীয় স্রোত। এটি তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়। যথা- উত্তর আটলান্টিক স্রোত, ক্যানারি স্রোত, পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড স্রোত।
নিরক্ষরেখার উত্তরে যে উষ্ণ স্রোতটি পূর্ব হতে সোজা পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত। এটি মূলত ক্যানারি স্রোতের বর্ধিত অংশ।
এরপর উত্তর মহাসাগর হতে গ্রিনল্যান্ডের দুই দিক দিয়ে যে দুটি শীতল স্রোত দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয় তাদের সুমেরু স্রোত বলে। মেরুদেশীয় বায়ুর প্রভাবে এবং উত্তর মহাসাগর ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পানির লবণাক্ততার পার্থক্যের দরুন এ স্রোতের উৎপত্তি হয়। উক্ত স্রোত দুটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এ মিলিত স্রোতটি ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত।
এছাড়া ক্যানারী স্রোতের একটি ক্ষুদ্র শাখা গিনি উপমহাসাগরে প্রবেশ করে যাকে গিনি স্রোত বলা হয়। এটি একটি উষ্ণ স্রোত। আরও একটি স্রোত রয়েছে তা হলো ইরমিনজার স্রোত। উত্তর মহাসাগর হতে ইরমিনজার নামক একটি শীতল স্রোত আইসল্যান্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূল দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। কিছুদূর গিয়ে এটি উত্তর আটলান্টিক স্রোতের উত্তর দিকের কতিপয় ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।
সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত স্রোতগুলো উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বিভিন্ন বায়ু ও স্থলভাগের প্রভাবে বৈচিত্র্যময় অবস্থার সৃষ্টি করে।