উদ্দীপকের মিতুর দেখা ঘটনাটি হলো জোয়ারভাটা। উত্ত জোয়ারভাটার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব: পৃথিবীর সকল পদার্থের আকর্ষণ শক্তি আছে এবং একটি অপরটিকে আকর্ষণ করছে। এ আকর্ষণকে মহাকর্ষণ বলে। এ আকর্ষণের ফলে পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চরদিকে এবং চন্দ্র সর্বদা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। এ আকর্ষণ শক্তির ফলেই ভূপৃষ্ঠে পানিরাশি পৃথিবী হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। পৃথিবীর সব পদার্থের আকর্ষণশক্তি একরূপ নয়। যে পদার্থ যত বড়, তার আকর্ষণ করার শক্তিও তত বেশি। কিন্তু দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণ শক্তি কমে যায়। অতএব, এটা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, জোয়ারভাটার ব্যাপারে চন্দ্র ও সূর্য উভয়ই পৃথিবীর উপর নিজ নিজ শক্তি প্রয়োগ করলেও চন্দ্রের শক্তিই অধিক কার্যকরী। জলভাগের উপর চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণের পার্থক্যের দরুন জোয়ারভাটা সংঘটিত হয়।
কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাব: ঘূর্ণনশীল পৃথিবী পৃষ্ঠের যে কেন্দ্রাতিক শক্তি উৎপন্ন হয়, জোয়ারের জন্য তাও দায়ী। পৃথিবী নিজ মেরুদণ্ডের উপর থেকে দ্রুত ঘুরছে বলে তার পৃষ্ঠ হতে তরল পানিরাশিও চারদিকে ছিটকে যাবার প্রবণতা লাভ করছে। এটাই কেন্দ্রাতিক শক্তি। এটাও জোয়ারের অন্যতম কারণ। যেমন-কাদা-পানিযুক্ত কোনো রাস্তা দিয়ে যখন কোনো গাড়ি দ্রুতবেগে অগ্রসর হয় তখন তার চাকা হতে কাদাপানি চারদিকে ছিটকে যায়। এভাবে জোয়ারভাটা সৃষ্টি হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত কারণে জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয়ে থাকে।