চিত্রদ্বয়ে ইঙ্গিতকৃত ঘটনা দুটো হলো জোয়ারভাটা। উক্ত জোয়ারভাটা উপকূলীয় অধিবাসীদের উপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রভাবই প্রতিফলিত হয়। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
জোয়ারের সময় পানি বৃদ্ধি পায় বলে সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীবন্দরে প্রবেশে সুবিধা হয়। আবার ভাটার সময় জাহাজ স্রোতের সঙ্গে অনায়াসে সমুদ্রে এসে পড়ে। যেমন- চট্টগ্রাম, চালনা, কলকাতা, লন্ডন প্রভৃতি বন্দরে জোয়ারের সময় জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে এবং ভাটার সময় সমুদ্রে বের হয়ে আসে।
এছাড়া জোয়ারভাটার ফলে নদীর পানি নির্মল থাকে। দৈনিক দু'বার করে জোয়ারভাটার ফলে নদীতে সঞ্চিত সব আবর্জনা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
আবার জোয়ারভাটার ফলে পলিমাটি পড়ে নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। ফলে সারাবছর নৌচলাচলের যোগ্য হয়।
অধিকন্তু, জোয়ারভাটার ফলে উপকূলীয় এলাকার সমতলভূমিতে লবণ চাষ করা হয়। যেমন- বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষ করা হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, জোয়ারভাটার ফলে উপরোল্লিখিত ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও কিছু কিছু স্থানে জোয়ারের ফলে জোয়ারের বান হয়। এতে ভূমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে ওঠে। তথাপি জোয়ার আমাদের সকলের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ বলে মনে করি।