উদ্দীপকের 'ক ও 'খ বলতে জোয়ারভাটাকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত জোয়ারভাটা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাব ফেলে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
সুন্দরবনের বিস্তার: বাংলাদেশের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বা গরান
বনভূমি হলো দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের জোয়ারভাটা পূর্ণ অঞ্চল। এ বনে সুন্দরি বৃক্ষ জন্মে। এখানকার বৃক্ষাদির ওপর জোয়ারভাটা খুব লক্ষণীয়। এখানকার পানি লবণাক্ত এবং লবণাক্ততা সহ্যকারী এমন বৃক্ষাদি এ বনভূমিতে জন্মে।
মৎস্য আহরণ: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের পানি আটকে মাছের পোনা ধরা ও চিংড়ি চাষ করা হয়। এছাড়া নদীর মোহনা ও খাড়ি অঞ্চলে প্রচুর মৎস্য খাদ্যের প্রাচুর্য থাকার কারণে সমুদ্র থেকে জোয়ারের সময় অসংখ্য মাছ এসে ভিড় করে উপকূলীয় অঞ্চলের নদী মোহনায়। মৎস্যজীবীরা অতি সহজে এখান থেকে মৎস্য আহরণ করে থাকে।
জোয়ারের সময়: উপকূলীয় অঞ্চলের সমুদ্রের পানি অনেকটাই ফুলে উঠে। ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজগুলো নদীবন্দরে প্রবেশ করে। ভাটার সময় জাহাজগুলো অনায়াসে গভীর সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মংলা, কুয়াকাটা প্রভৃতি সামুদ্রিক বন্দরে জোয়ারের সময় জাহাজ প্রবেশ করে এবং ভাটার সময় সমুদ্রে বের হয়ে আসে।
নদীর আবর্জনা পরিষ্কার: উজান থেকে নদী প্রচুর আবর্জনা নিয়ে আসে। জোয়ারভাটার ফলে এসব আবর্জনা গভীর সমুদ্রে চলে যায়।
লবণ উৎপাদন কেন্দ্র: জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি লবণ উৎপাদন কেন্দ্রের অগভীর প্রশস্ত জলাশয়ে প্রবেশ করে। পরে ঐ আবদ্ধ পানিরাশিকে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়।
ক্ষতিকর প্রভাব: জোয়ারের সময় উপকূলীয় নদীগুলো দিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। লবণাক্ত পানি ফসলের জন্য ক্ষতিকর।
মানুষের জানমালের ক্ষতি: ফানেল আকৃতির বঙ্গোপসাগরে জোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হলে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। এতে বহু লোকের প্রাণ হানি হয়।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, জোয়ারভাটা হলো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এর উপকারী ও অপকারী দিক উভয়ই বিদ্যমান।