উদ্দীপকে 'খ' তে ভারত মহাসাগরের কথা বলা হয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় স্রোতগুলো হলো— গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমি স্রোত, সোমালি, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার স্রোত, আগুলহাস স্রোত, পশ্চিম অস্ট্রেলিয় স্রোত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মানবজীবনে ভারত মহাসাগরের স্রোতগুলোর প্রভাব আলোচনা করা হলো-
গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমি স্রোতের প্রভাব : উত্তর ভারত মহাসাগরের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোত সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন । এ উপসাগরীয় স্রোত : দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের একটি শাখা। স্রোতের প্রভাবে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। দক্ষিণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূল দিয়ে। এশিয়ার সম্পূর্ণ কৃষিকাজ এই মৌসুমি স্রোতপ্রবাহ ও এর কারণে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে। সেখানে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন একটি শাখা এসে মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত মেক্সিকো সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও ভারতের কৃষির একটা বড় অংশ এবং মৎস্য প্রজনন বর্ষার ওপর নির্ভরশীল ।
সোমালি, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার ও আগুলহাস স্রোতের প্রভাব : আফ্রিকার উপকূলে উষ্ণ সোমালি, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার ও আগুলহাস স্রোত প্রবাহিত থাকার কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং এ এলাকাগুলো কৃষিকার্যে যথেষ্ট উন্নত। এই বৃষ্টিপাতের কারণে উক্ত এলাকাগুলোতে বর্ষজীবী উদ্ভিদ জন্মাতে দেখা যায়। উষ্ণ স্রোতের গতিপথে সামুদ্রিক জাহাজগুলোও দ্রুত যাতায়াত করতে পারে। উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত থাকার কারণে মিয়ানমার, মালয়েশিয়ায় ও সুমাত্রা উপকূলের জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং উপকূলীয় এলাকার বৃষ্টিপাতে স্রোতগুলো প্রভাববিস্তার করে ।
পশ্চিম অস্ট্রেলীয় স্রোতের প্রভাব : পশ্চিম অস্ট্রেলিয় স্রোতটি পর্যায়ক্রমে উষ্ণতাপ্রাপ্ত হয় বিধায় ঐ উপকূলে বৃষ্টিপাত কম হয় । ফলে উপকূলীয় এলাকায় জলাভূমি সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্রোতের উত্তরাংশে উপকূল এলাকায় বৃষ্টিপাত বেশি বলে ঘন বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে।
নিরক্ষীয় স্রোতের প্রভাব : উষ্ণ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতপথে অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জাহাজ অফ্রিকার পথে এবং আফ্রিকা থেকে নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত কিংবা গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোত পথে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল করে।
পরিশেষে বলা যায়, ভারত মহাসাগ্রীয় স্রোতগুলো উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু, কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাববিস্তার করে থাকে ।