উদ্দীপকের চিত্রে জোয়ারভাটাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায় ।
সাধারণত সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। জোয়ারভাটা বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকার অধিবাসীদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে ।
জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পানি অধিক থাকে । ফলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধাজনক হয়। আবার, ভাটার টানে ঐ. জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে নেমে আসতে পারে। জোয়ারভাটার মধ্য দিয়ে ভূখণ্ড থেকে ময়লা-আবর্জনাসমূহ সাগরে গিয়ে পতিত হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারভাটার প্রভাবে মৎস্যের প্রাচুর্যহেতু শত শত লোক মৎস্য আহরণসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত আছে। এ সকল মৎস্য দেশ ও বিদেশের বাজারে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন হয় ।
স্বাভাবিক জোয়ারভাটার কোনো কুফল নেই। এটি নিতান্তই প্রাকৃতিক। তবে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে জোয়ারের সময় বান ডাকার ফলে অনেক সময় নৌকা, লঞ্চ প্রভৃতি ডুবে যায় এবং উপকূলবর্তী অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জানমালের ক্ষতি হয়। এছাড়া শীত ঋতুতে জোয়ারের লবণাক্ত পানি নদীর অভ্যন্তরে বহুদূরে অগ্রসর হতে পারে। ফলে নদীর পার্শ্ববর্তী মাঠের ফসল, গবাদিপশু ও বিভিন্ন শিল্পের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
সুতরাং জোয়ারভাটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারভাটার এ প্রভাব ইতিবাচক। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জোয়ারভাটার নেতিবাচক প্রভাবও ফেলে ।