'ক' ও 'খ' তে যথাক্রমে তেজ কটাল ও মরা কাটাল প্রদর্শিত হয়েছে। এ সময় জোয়ার-ভাটার পার্থক্যের মূল কারণ পৃথিবীর সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আপেক্ষিক অবস্থানের পার্থক্য।
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। ফলে ঐ সময়ে সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে। এ ফুলে ওঠাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
অপরদিকে, অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য সমসূত্রে না থেকে উভয়ে পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে অবস্থান করে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। সুতরাং, সেই দিন জ্যোতিষ্কদ্বয়ের আকর্ষণ আড়াআড়িভাবে (সমকোণে) কার্যকরি হয়। এই সময় চাঁদের আকর্ষণে চাঁদ ও এর বিপরীত দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণেও সূর্য এবং এর বিপরীত দিকে জোয়ার হওয়ার কথা। কিন্তু সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণশক্তি বেশি বলে চাঁদ ও এর বিপরীত দিকে জোয়ার কার্যকর হয়। একই সঙ্গে সূর্য এবং এর বিপরীত দিকে ভাটা হয়। এর ফলে চন্দ্রের আকর্ষণের দিকে এবং বিপরীতে জোয়ারের পানি বেশি ফুলে উঠতে পারে না। ফলে জোয়ারের তীব্রতা কম হয়। এ কারণে এ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
সুতরাং বলা যায়, তেজ কটাল ও মরা কটাল, এ দুটি জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য উৎপত্তিগত এবং তীব্রতায়।