সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে সবুজ সমুদ্রের যে রূপটি দেখেছিল তা হলো জোয়ার ও ভাটা। সাধারণত সমুদ্রের পানি ফুলে উঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তনের দরুন সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও কেন্দ্রাবিমুখী শক্তি জোয়ার-ভাটার জন্য দায়ী। মহাকাশের প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহ পরস্পরকে আকর্ষণ করছে। এই আকর্ষণের ফলে পৃথিবীসহ সকল গ্রহ সূর্যের চারদিকে এবং সকল উপগ্রহ গ্রহগুলোর চারদিকে ঘুরছে। এ আকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর উপরিভাগের তরল পানিরাশি পৃথিবী হতে চ্যুত হতে পারে না। সূর্য চাঁদ অপেক্ষা বড় হলেও পৃথিবী হতে চাঁদের দূরত্ব সূর্য হতে কম থাকায় চাঁদের আকর্ষণ শক্তি সূর্য হতে বেশি। তাই চাঁদের আকর্ষণে পানি অধিক ফুলে উঠে এবং জোয়ার হয়। আবার পৃথিবী ও চাঁদের আবর্তনের জন্য ভূপৃষ্ঠের তরল ও হালকা পানিরাশির ওপর কেন্দ্রাবিমুখী শক্তির প্রভাব অধিক হয়। এর ফলে পানিরাশি ভূভাগ হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। এভাবে কেন্দ্রাবিমুখী শক্তি জোয়ার সৃষ্টিতে সহায়তা করে। অপরদিকে, পৃথিবীর মোট পানিরাশির পরিমাণ সর্বত্র সমান না হওয়ায় পৃথিবীর একপাশে মুখ্য জোয়ার অপর পাশে গৌণ জোয়ার হয়। তখন এ দুই জোয়ারের মধ্যবর্তী সমকোণে অবস্থিত অংশে দূর হতে পানিরাশি সরে যায় বলে ঐ দুই স্থানে তখন ভাটা হয়।