উদ্দীপকের উসমানের সাথে ফাতেমি খলিফা ওবায়দুল্লাহ আল মাহদির সাদৃশ্য রয়েছে।
ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে আগলাবীয় বংশের ধ্বংসস্তূপের ওপর এই খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। তার পরবর্তী শাসকদের দক্ষ শাসনে এটি একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী খিলাফতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত উসমানের কাজেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের বর্ণানুযায়ী, অটোমান সুলতান উসমান মধ্য এশিয়ার প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে তার রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। এ রাজ্যটি পরবর্তী সময়ে তার উত্তরসূরিদের হাতে এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। উসমানের মতো সাঈদ বিন হুসাইন ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে 'ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি' উপাধি নিয়ে ফাতেমি বংশের গোড়াপত্তন করেন। সুদীর্ঘ দুই শতাব্দীরও অধিক সময় প্রচেষ্টার ফলে উত্তর আফ্রিকায় প্রথম শিয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় । এক্ষেত্রে শিয়া ধর্ম প্রচারক আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। উত্তর আফ্রিকার সব দলপতি আল মাহদির কাছে অনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। তিনি রাক্কাদায় রাজধানী স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে কায়রোয়ানের ১৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নতুন রাজধানী স্থাপন করে ফাতেমি বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়। খলিফা আল মুইজের রাজত্বকালে ফাতেমি খিলাফত একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। মুইজ মরোক্কো, সিসিলি, হেজাজ, সিরিয়া, মিসর প্রভৃতি অঞ্চল জয়ের মাধ্যমে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় ফাতেমি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বলা যায়, সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে উদ্দীপকের উসমানের সাথে খলিফা ওবায়দুল্লাহ আল মাহদির মিল রয়েছে।