HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন।
ক
ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ।
উত্তর
ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি।
খ
ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা'আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।" আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর।
উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে সেনাপতির নির্মিত নগরী মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দিক থেকে সেনাপতি জওহরের সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর মিশর জয়ের পর রাজধানী ফুসতাতের কাছাকাছি আল-কাহিরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিও পোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা তৈরি করা হয়। মুইজের নির্দেশে ১,২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল-মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী। খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দস্তরখানা এবং দক্ষিণে ১৭০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা ৯৭২০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল আজহার। পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। আল মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, "মিশর জয়লাভ করাই আল-মুইজের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল না বরং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন।" ফাতেমি খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের পরামর্শে আল আজহার মসজিদের পাশে ৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। এটি পরবর্তীকালে জগদ্বিখ্যাত বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।
উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন।
আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন।
পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো