Chapter 7 : উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 7 : উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৭৪

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন।
ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ।

উত্তর

ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি।
ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা'আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।" আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে সেনাপতির নির্মিত নগরী মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দিক থেকে সেনাপতি জওহরের সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর মিশর জয়ের পর রাজধানী ফুসতাতের কাছাকাছি আল-কাহিরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিও পোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা তৈরি করা হয়। মুইজের নির্দেশে ১,২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল-মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী। খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দস্তরখানা এবং দক্ষিণে ১৭০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা ৯৭২০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল আজহার। পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। আল মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, "মিশর জয়লাভ করাই আল-মুইজের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল না বরং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন।" ফাতেমি খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের পরামর্শে আল আজহার মসজিদের পাশে ৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। এটি পরবর্তীকালে জগদ্বিখ্যাত বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন। আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন। পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন।
ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ।

উত্তর

ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি।
ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা'আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।" আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে সেনাপতির নির্মিত নগরী মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দিক থেকে সেনাপতি জওহরের সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর মিশর জয়ের পর রাজধানী ফুসতাতের কাছাকাছি আল-কাহিরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিও পোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা তৈরি করা হয়। মুইজের নির্দেশে ১,২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল-মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী। খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দস্তরখানা এবং দক্ষিণে ১৭০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা ৯৭২০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল আজহার। পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। আল মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, "মিশর জয়লাভ করাই আল-মুইজের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল না বরং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন।" ফাতেমি খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের পরামর্শে আল আজহার মসজিদের পাশে ৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। এটি পরবর্তীকালে জগদ্বিখ্যাত বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন। আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন। পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপে চার্লসীয় রাজবংশের গোড়াপত্তন হয়। চার্লসীয়রা ছিল রিচার্ডের অনুসারী ও অনুগামী। উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তা ধর্মীয় প্রচারণা শুরু করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থিরতাপূর্ণ।
ইব্রাহিম বিন আগলাব কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

ইব্রাহিম বিন আগলাব ৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তর আফ্রিকায় শিয়ারা যে ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়, তা ব্যাখ্যা কর

উত্তর

উত্তর আফ্রিকার শিয়ারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়। এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সমর্থক ছিলেন পারস্যবাসী আব্দুল্লাহ-বিন-মাইমুন। তিনি নবম শতাব্দীর শেষভাগে ফকির, দরবেশ ও বণিক ছদ্মবেশে মুসলিম জাহানের প্রায় সর্বত্র, এমনকি উত্তর আফ্রিকায়ও প্রচারক বা 'দাঈ' পাঠাতে থাকেন। এ প্রচারকদের মূল কাজ ছিল ইসমাইলীয় মতবাদের বীজ বপন করা। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তার ধর্মীয় প্রচারণার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ বিন মাইমুনের ধর্মীয় প্রচারণার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ইবনে হাওসাব এবং হুনওয়ানি নামক দুইজন বিখ্যাত প্রচারক বা দাঈকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করেছিলেন। ইবনে হাওসাবের পরামর্শ ও নির্দেশে আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ৯০০ সালে হজের সময় ইফ্রিকিয়াতে চলে আসেন এবং কাতামা গোত্রের সাথে শিক্ষক বেশে মধুর সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। আবু আব্দুল্লাহ আশ- শিয়ী অতি গোপনে তার প্রচারকার্যের মাধ্যমে কাতামা গোত্রকে আব্বাসি শাসনের বিরুদ্ধে অতিশয় উত্তেজিত করে তোলেন এবং তিনি আরও প্রচার করেন যে শিগগিরই ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে। তিনি আরও প্রচার করেন যে, ধর্মীয় ব্যাপারে অতি জটিল প্রশ্নের সমাধান একমাত্র ইমামগণই দিতে পারেন। এ ধরনের ইমামের সংখ্যা ৭। এদের প্রথম ইমাম হযরত আলী এবং শেষ ইমাম হযরত ইসমাইল। এভাবে কাতামা গোত্রের লোকজন তাকে সাধু-দরবেশ বলে গ্রহণ করে। ইমাম আল মাহদির আগমন হলে তারা তাকে সাহায্য দান করবে বলে আশ্বাস দেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন মন্তব্য কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। উত্তর আফ্রিকায় শাসনকর্তা ছিলেন ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাব।। আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ইতিমধ্যে কাতামাদের সাহায্যে অনেক প্রদেশ দখল করেন এবং সেখানে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার করেন। ৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাবির মৃত্যুর পর তার পুত্র। জিয়াদাত উল্লাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি তার রাজ্যে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুধাবন করে আবু আব্দুল্লাহ একজন তুখোড় ও ঝানু প্রচারক সাইদ ইবনে হোসেনকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করলে জিয়াদাত উল্লাহ তাকে কায়রোয়ানে বন্দি করেন। এ সংবাদে আবু আব্দুল্লাহ কাতামাদের সাহায্য নিয়ে মাজানা সাস ও মেরিদা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করে জিয়াদাত উল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। জিয়াদাত উল্লাহ যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে বাগদাদ গমন করেন এবং রামোলা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। আবু আব্দুল্লাহ জিয়াদাত উল্লাহ আগলাবিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজয়ীর বেশে রাজধানী রাক্কাদায় প্রবেশ করেন এবং নিজ হস্তে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী সাইদ বিন হোসেনকে একটি অশ্বপৃষ্ঠে বসিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন এবং সানন্দে ঘোষণা করতে থাকেন, ইনিই তোমাদের প্রভু (ইমাম)। এরপর ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আবু আব্দুল্লাহ কায়রোয়ান মসজিদে সাইদ বিন হোসেনকে 'মাহদি' বলে ঘোষণা করেন। তৎকালীন সময় থেকে তিনি ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি নাম ধারণ করে মিশরে প্রথম ফাতেমি খলিফা হন এবং জনগণকে ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণের আহ্বান জনান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপে চার্লসীয় রাজবংশের গোড়াপত্তন হয়। চার্লসীয়রা ছিল রিচার্ডের অনুসারী ও অনুগামী। উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তা ধর্মীয় প্রচারণা শুরু করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থিরতাপূর্ণ।
ইব্রাহিম বিন আগলাব কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

ইব্রাহিম বিন আগলাব ৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তর আফ্রিকায় শিয়ারা যে ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়, তা ব্যাখ্যা কর

উত্তর

উত্তর আফ্রিকার শিয়ারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়। এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সমর্থক ছিলেন পারস্যবাসী আব্দুল্লাহ-বিন-মাইমুন। তিনি নবম শতাব্দীর শেষভাগে ফকির, দরবেশ ও বণিক ছদ্মবেশে মুসলিম জাহানের প্রায় সর্বত্র, এমনকি উত্তর আফ্রিকায়ও প্রচারক বা 'দাঈ' পাঠাতে থাকেন। এ প্রচারকদের মূল কাজ ছিল ইসমাইলীয় মতবাদের বীজ বপন করা। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তার ধর্মীয় প্রচারণার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ বিন মাইমুনের ধর্মীয় প্রচারণার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ইবনে হাওসাব এবং হুনওয়ানি নামক দুইজন বিখ্যাত প্রচারক বা দাঈকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করেছিলেন। ইবনে হাওসাবের পরামর্শ ও নির্দেশে আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ৯০০ সালে হজের সময় ইফ্রিকিয়াতে চলে আসেন এবং কাতামা গোত্রের সাথে শিক্ষক বেশে মধুর সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। আবু আব্দুল্লাহ আশ- শিয়ী অতি গোপনে তার প্রচারকার্যের মাধ্যমে কাতামা গোত্রকে আব্বাসি শাসনের বিরুদ্ধে অতিশয় উত্তেজিত করে তোলেন এবং তিনি আরও প্রচার করেন যে শিগগিরই ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে। তিনি আরও প্রচার করেন যে, ধর্মীয় ব্যাপারে অতি জটিল প্রশ্নের সমাধান একমাত্র ইমামগণই দিতে পারেন। এ ধরনের ইমামের সংখ্যা ৭। এদের প্রথম ইমাম হযরত আলী এবং শেষ ইমাম হযরত ইসমাইল। এভাবে কাতামা গোত্রের লোকজন তাকে সাধু-দরবেশ বলে গ্রহণ করে। ইমাম আল মাহদির আগমন হলে তারা তাকে সাহায্য দান করবে বলে আশ্বাস দেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন মন্তব্য কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। উত্তর আফ্রিকায় শাসনকর্তা ছিলেন ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাব।। আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ইতিমধ্যে কাতামাদের সাহায্যে অনেক প্রদেশ দখল করেন এবং সেখানে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার করেন। ৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাবির মৃত্যুর পর তার পুত্র। জিয়াদাত উল্লাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি তার রাজ্যে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুধাবন করে আবু আব্দুল্লাহ একজন তুখোড় ও ঝানু প্রচারক সাইদ ইবনে হোসেনকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করলে জিয়াদাত উল্লাহ তাকে কায়রোয়ানে বন্দি করেন। এ সংবাদে আবু আব্দুল্লাহ কাতামাদের সাহায্য নিয়ে মাজানা সাস ও মেরিদা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করে জিয়াদাত উল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। জিয়াদাত উল্লাহ যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে বাগদাদ গমন করেন এবং রামোলা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। আবু আব্দুল্লাহ জিয়াদাত উল্লাহ আগলাবিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজয়ীর বেশে রাজধানী রাক্কাদায় প্রবেশ করেন এবং নিজ হস্তে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী সাইদ বিন হোসেনকে একটি অশ্বপৃষ্ঠে বসিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন এবং সানন্দে ঘোষণা করতে থাকেন, ইনিই তোমাদের প্রভু (ইমাম)। এরপর ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আবু আব্দুল্লাহ কায়রোয়ান মসজিদে সাইদ বিন হোসেনকে 'মাহদি' বলে ঘোষণা করেন। তৎকালীন সময় থেকে তিনি ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি নাম ধারণ করে মিশরে প্রথম ফাতেমি খলিফা হন এবং জনগণকে ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণের আহ্বান জনান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জয়নগরে ধর্মভিত্তিক একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এ বংশকে কণ্টকমুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সকলকে হত্যা করেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকালে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠিত বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক কে?

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক বা খলিফা ছিলেন খলিফা আল আজিদ।
দারুল হিকমা কী?

উত্তর

বাগদাদের 'বায়তুল হিকমা'র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে" ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো 'দারুল হিকমা' বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের চরিত্রকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর চরিত্রকে ইঙ্গিত করেছে। উবায়দুল্লাহ আল মাহদি ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আগলাবি রাজধানী রাজা বা রাকাদায় নবপ্রতিষ্ঠিত ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। আল মনসুরের মতো তিনি আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ফাতেমি খিলাফত কন্টকমুক্ত করেন। তিনি আগলাবি শাসনাধীন সিসিলি, মাল্টা, কর্লিকা প্রভৃতি দ্বীপ দখল করেন এবং সার্ভিনিয়ায় নৌ আক্রমণ পরিচালনা করেন। ৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া দখল করেন। এর ফলে তার রাজ্যসীমা মরক্কো হতে মিশর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। তিনি উমর বিন হাফসুনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে স্পেন জয়ের চেষ্টা করেন। ৯১৬-২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কায়রোয়ানের ১৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মাহদীয়া নগর নামে একটি নগর স্থাপন করে সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তার ঐতিহাসিক রাজত্বকাল ছিল দীর্ঘ ২৬। বছর। তিনি বলিষ্ঠ বৈদেশিক নীতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ফাতেমি বংশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের দীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকাল এবং রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তাই নিঃসন্দেহে। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর শাসনকে ইঙ্গিত করেছে বলা যায়।
তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকই তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা? মতামত দাও।

উত্তর

আমি মনে করি, উবায়দুল্লাহ আল মাহদীই ছিলেন তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। আল মাহদীর খিলাফতকাল পর্যালোচনা করলে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ছিলেন ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়ায় তিনিই সর্বপ্রথম ফাতেমি খিলাফতের গোড়াপত্তন করেন। অতঃপর ৯০৯ থেকে ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর দক্ষতার সাথে উত্তর আফ্রিকা শাসন করেন এবং ফাতেমি রাজবংশ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ইমাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদী। প্রকৃতই আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর ছিলেন কিনা সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তার সযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে এ খিলাফত বিস্তার লাভ করে। খিলাফতের প্রয়োজনে তিনি ৯১৬-২০ খ্রিস্টাব্দে মাহদিয়া নগর স্থাপন করেন এবং সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। ফাতেমি খিলাফতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা বিদ্রোহগুলো দক্ষতার সাথে দমন এবং রাজ্যসীমার বিস্তার তার রাজবংশকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। মাহদী কর্তৃক ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠিত হবার পর একশ বছরের মধ্যে তার বা তার উত্তরাধিকারীদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়নি শুধুমাত্র তার শাসন দক্ষতার কারণে। বলিষ্ঠ বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ফাতেমি খিলাফতকে স্থায়িত্বদানের জন্য তাকে তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জয়নগরে ধর্মভিত্তিক একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এ বংশকে কণ্টকমুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সকলকে হত্যা করেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকালে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠিত বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক কে?

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক বা খলিফা ছিলেন খলিফা আল আজিদ।
দারুল হিকমা কী?

উত্তর

বাগদাদের 'বায়তুল হিকমা'র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে" ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো 'দারুল হিকমা' বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের চরিত্রকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর চরিত্রকে ইঙ্গিত করেছে। উবায়দুল্লাহ আল মাহদি ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আগলাবি রাজধানী রাজা বা রাকাদায় নবপ্রতিষ্ঠিত ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। আল মনসুরের মতো তিনি আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ফাতেমি খিলাফত কন্টকমুক্ত করেন। তিনি আগলাবি শাসনাধীন সিসিলি, মাল্টা, কর্লিকা প্রভৃতি দ্বীপ দখল করেন এবং সার্ভিনিয়ায় নৌ আক্রমণ পরিচালনা করেন। ৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া দখল করেন। এর ফলে তার রাজ্যসীমা মরক্কো হতে মিশর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। তিনি উমর বিন হাফসুনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে স্পেন জয়ের চেষ্টা করেন। ৯১৬-২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কায়রোয়ানের ১৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মাহদীয়া নগর নামে একটি নগর স্থাপন করে সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তার ঐতিহাসিক রাজত্বকাল ছিল দীর্ঘ ২৬। বছর। তিনি বলিষ্ঠ বৈদেশিক নীতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ফাতেমি বংশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের দীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকাল এবং রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তাই নিঃসন্দেহে। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর শাসনকে ইঙ্গিত করেছে বলা যায়।
তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকই তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা? মতামত দাও।

উত্তর

আমি মনে করি, উবায়দুল্লাহ আল মাহদীই ছিলেন তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। আল মাহদীর খিলাফতকাল পর্যালোচনা করলে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ছিলেন ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়ায় তিনিই সর্বপ্রথম ফাতেমি খিলাফতের গোড়াপত্তন করেন। অতঃপর ৯০৯ থেকে ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর দক্ষতার সাথে উত্তর আফ্রিকা শাসন করেন এবং ফাতেমি রাজবংশ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ইমাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদী। প্রকৃতই আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর ছিলেন কিনা সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তার সযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে এ খিলাফত বিস্তার লাভ করে। খিলাফতের প্রয়োজনে তিনি ৯১৬-২০ খ্রিস্টাব্দে মাহদিয়া নগর স্থাপন করেন এবং সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। ফাতেমি খিলাফতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা বিদ্রোহগুলো দক্ষতার সাথে দমন এবং রাজ্যসীমার বিস্তার তার রাজবংশকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। মাহদী কর্তৃক ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠিত হবার পর একশ বছরের মধ্যে তার বা তার উত্তরাধিকারীদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়নি শুধুমাত্র তার শাসন দক্ষতার কারণে। বলিষ্ঠ বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ফাতেমি খিলাফতকে স্থায়িত্বদানের জন্য তাকে তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মোহরগঞ্জে শাহী বংশের ধ্বংসস্তূপের ওপর সরকার বংশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকার বংশীয় ১৪ জন শাসকের মধ্যে জনাব রেহমান সরকার উদাসীন শাসক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রাচ্যের খলিফা আল- মামুনের কৃতিত্বের সাথে তুলনার দাবি রাখে।
মিশরে আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় কখন?

উত্তর

মিশরে আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে।
ইতিহাসে 'আলাবি' নামে পরিচিত কারা?

উত্তর

মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর একদল মুসলমান হযরত আলী (রা.)-কে সমর্থন করে। তারা খিলাফতের প্রথম তিন খলিফাকে বৈধ হিসেবে মনে করেন না। এরা শিয়া সম্প্রদায় নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত ইসলামের 'খিলাফত' ও 'ইমামত' প্রশ্নে যে দুটি দলের সৃষ্টি হয়েছিল তাদের মধ্যে হযরত আলী (রা.)-কে সমর্থন করে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়েছিল তারাই শিয়া। আর ইতিহাসে এ শিয়া সম্প্রদায়ই 'আলাবি' নামে পরিচিত ছিল।
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের কোন বংশের উত্থানের ইতিহাস ফুটে উঠেছে?

উত্তর

উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের ফাতেমি বংশের উত্থানের ইতিহাস ফুটে উঠেছে। বহু বছরের আন্দোলনের ক্রমবিকাশের ফলে উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হযরত আলী (রা.) ও হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর নির্মম হত্যাকান্ডের ফলে ফাতেমিদের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও সহানুভূতি বৃদ্ধি পায়। তাকওয়া ও পরহেজগারির জন্যও ফাতেমিগণ জনসাধারণের মধ্যে অধিক জনপ্রিয় ছিল। জনসাধারণের এ ভালোবাসাকে পুঁজি করে আবু আব্দুল্লাহ্ আশ শিয়ীর সাফল্যের মাধ্যমে উবায়দুল্লাহ আল মাহদী উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। উবায়দুল্লাহ ফাতেমি বংশের কিনা এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে উবায়দুল্লাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে ফাতেমি নামে সুপরিচিত। হযরত ফাতেমা (রা.)-এর পুত্র হযরত হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.)-এর বংশধরদের ফাতেমি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে রেহমান সরকারের ভূমিকা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।

উত্তর

জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে রেহমান সরকারের ভূমিকা পাঠ্যবইয়ের খলিফা আল হাকিমের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। খলিফা আল হাকিম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক। উদ্ভট মনোভাবাপন্ন শাসক হলেও তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি মিশর ও সিরিয়ার বহু মসজিদ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মান, মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। তার প্রধান কীর্তি হলো- ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে দারুল হিকমা বা বিজ্ঞান ভবন প্রতিষ্ঠা, যা বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল। এখানে শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা ছাড়াও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখার অনেক পুস্তক সংগৃহীত ছিল। দেশ-বিদেশের বহু জ্ঞানী ও পন্ডিত এখানে আলোচনায় বসতেন। ইবনে খালদুনের মতে, তিনি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করার জন্য অথবা উপাসনার জন্য সেখানে যেতেন। ১০২১ খ্রিস্টাব্দে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত্রিতে তিনি সেখানে গমন করে আর ফিরে আসেননি। এক কথায় ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক। ইতিহাসে তার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মোহরগঞ্জে শাহী বংশের ধ্বংসস্তূপের ওপর সরকার বংশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকার বংশীয় ১৪ জন শাসকের মধ্যে জনাব রেহমান সরকার উদাসীন শাসক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রাচ্যের খলিফা আল- মামুনের কৃতিত্বের সাথে তুলনার দাবি রাখে।
মিশরে আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় কখন?

উত্তর

মিশরে আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে।
ইতিহাসে 'আলাবি' নামে পরিচিত কারা?

উত্তর

মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর একদল মুসলমান হযরত আলী (রা.)-কে সমর্থন করে। তারা খিলাফতের প্রথম তিন খলিফাকে বৈধ হিসেবে মনে করেন না। এরা শিয়া সম্প্রদায় নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত ইসলামের 'খিলাফত' ও 'ইমামত' প্রশ্নে যে দুটি দলের সৃষ্টি হয়েছিল তাদের মধ্যে হযরত আলী (রা.)-কে সমর্থন করে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়েছিল তারাই শিয়া। আর ইতিহাসে এ শিয়া সম্প্রদায়ই 'আলাবি' নামে পরিচিত ছিল।
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের কোন বংশের উত্থানের ইতিহাস ফুটে উঠেছে?

উত্তর

উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের ফাতেমি বংশের উত্থানের ইতিহাস ফুটে উঠেছে। বহু বছরের আন্দোলনের ক্রমবিকাশের ফলে উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হযরত আলী (রা.) ও হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর নির্মম হত্যাকান্ডের ফলে ফাতেমিদের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও সহানুভূতি বৃদ্ধি পায়। তাকওয়া ও পরহেজগারির জন্যও ফাতেমিগণ জনসাধারণের মধ্যে অধিক জনপ্রিয় ছিল। জনসাধারণের এ ভালোবাসাকে পুঁজি করে আবু আব্দুল্লাহ্ আশ শিয়ীর সাফল্যের মাধ্যমে উবায়দুল্লাহ আল মাহদী উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। উবায়দুল্লাহ ফাতেমি বংশের কিনা এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে উবায়দুল্লাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে ফাতেমি নামে সুপরিচিত। হযরত ফাতেমা (রা.)-এর পুত্র হযরত হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.)-এর বংশধরদের ফাতেমি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে রেহমান সরকারের ভূমিকা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।

উত্তর

জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে রেহমান সরকারের ভূমিকা পাঠ্যবইয়ের খলিফা আল হাকিমের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। খলিফা আল হাকিম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক। উদ্ভট মনোভাবাপন্ন শাসক হলেও তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি মিশর ও সিরিয়ার বহু মসজিদ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মান, মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। তার প্রধান কীর্তি হলো- ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে দারুল হিকমা বা বিজ্ঞান ভবন প্রতিষ্ঠা, যা বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল। এখানে শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা ছাড়াও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখার অনেক পুস্তক সংগৃহীত ছিল। দেশ-বিদেশের বহু জ্ঞানী ও পন্ডিত এখানে আলোচনায় বসতেন। ইবনে খালদুনের মতে, তিনি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করার জন্য অথবা উপাসনার জন্য সেখানে যেতেন। ১০২১ খ্রিস্টাব্দে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত্রিতে তিনি সেখানে গমন করে আর ফিরে আসেননি। এক কথায় ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক। ইতিহাসে তার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্বাসি আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন আবু মুসলিম নামে আরব বংশোদ্ভূত এক পারসিক মাওয়ালি। ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মার্চ তিনি খোরাসানের রাজধানী মার্ভে বিদ্রোহ ঘোষণা করে খোরাসান দখল করে তিনি সেখানে আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তী সময়ে উমাইয়া শাসক ইয়াজিদকে পরাজিত করে তিনি কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর। তিনি আবুল আব্বাসকে কৃষ্ণবস্ত্রে আচ্ছাদন করে কুফার মসজিদে এনে তাকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে এ সেনাপতি করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন, যা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আল কাইম কত খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন?

উত্তর

আল কাইম ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন।
সাবিয়া বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মুহাম্মদ আল মাকতুমের অনুসারী সাত জন ইমামে যারা বিশ্বাস করে তারাই ইতিহাসে সাবিয়া নামে পরিচিত। শিয়ারা তাদের ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর আস সাদিক পর্যন্ত ইমাম নিয়ে মতপার্থক্য করে না। জাফর আস সাদিক মৃত্যুর পূর্বে স্বীয়পুত্র ইসমাইলকে ইমাম মনোনীত করেন। কিন্তু জাফরের পূর্বে ইসমাইলের মৃত্যু হলে জাফর অপর পুত্র' মুসা আল কাজিমকে ইমাম মনোনীত করেন। ইসমাইলীয়রা মুসা আল কাজিমকে অস্বীকার করে এবং তাদের মতে, ইসমাইলের পর থেকে জাহেরি তথ্য প্রকাশ্য ইমামত শেষ এবং মুহাম্মদ আল মাকতুম হতে বাতেনি তথা গুপ্ত প্রভাবান্বিত হয়েছিল এবং তারা সাত জন ইমামে বিশ্বাসী বলে তাদেরকে সাবিয়া বলা হয়।
উদ্দীপকটি তোমার পঠিত কোন সেনাপতির অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকটি আমার পঠিত সেনাপতি আবু আব্দুল্লাহ আশশিয়ীর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন। ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে আবু আবদুল্লাহ আল হুসায়ন শিয়া মতবাদ প্রচারকার্যের দায়িত্ব নেন। ফাতেমি ইতিহাসে তিনি শিয়ী হিসেবে পরিচিত। আবু আব্দুল্লাহ ৯০১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকায় গমন করে নিজেকে ইমাম মাহদীর অগ্রদূত বলে ঘোষণা দেন। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও অনলবর্ষী বস্তা আবু আবদুল্লাহর যোগ্য পরিচালনা, প্রচারণা ও চরিত্রবলে বার্বাররা কাতামা গোত্রে ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণ করে.। কিন্তু উত্তর আফ্রিকার আগলাবী শাসক জিয়াদাতউল্লাহ ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচারে বাধা দিলে আবু আব্দুল্লাহর সাথে তার সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ মার্চ যুদ্ধে জিয়াদাতটুল্লাহ পরাজিত হয়ে পলায়ন করেন। আগলাবি রাজধানী দখল করে আবু আবদুল্লাহ ইমাম সাঈদ বিন হোসাইনকে রাকাদায় আমন্ত্রণ জানান। আবু আব্দুল্লাহ সাঈদকে নিয়ে কায়রোয়ানে প্রবেশ করেন এবং উবায়দুল্লাহ আল মাহদী উপাধি দিয়ে ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে খলিফা ঘোষণা করেন। সুতরাং বলা যায় যে, ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আবু আব্দুল্লাহর ভূমিকা অপরিসীম।
উক্ত সেনাপতিও কি অনুরূপ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন? যৌক্তিক উত্তর দাও।

উত্তর

সেনাপতি আবু মুসলিমের মৃত্যুর মতোই আবু আব্দুল্লাহ আশ শিয়ীর মৃত্যু সংঘটিত হয়েছিল। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ফাতেমি খিলাফতের প্রথম খলিফা হলেও এ খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর অসামান্য অবদান রয়েছে। আল মাহদি উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের তিনিই যথার্থ দাবিদার। বলা হয় যে, আব্বাসি খিলাফত। প্রতিষ্ঠায় আবু মুসলিম খোরাসানির যে অবদান, তেমনি ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর অবদান। তবে ইতিহাসের নির্মম পরিণতি এই যে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার পরই তারা উভয়ই ক্ষমতাসীন খলিফাদের রোষানলে পতিত হন এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকান্ডের শিকার হন। উল্লেখ্য, খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর পরই উবায়দুল্লাহ আল মাহদী সম্পর্কে অনেকের মতো আশ শিয়ীয়ও। মোহমুক্তি ঘটে। তার মধ্যে প্রত্যাশিত অলৌকিক ক্ষমতা না দেখতে পেয়ে কাতামা গোত্রের লোকজনও তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠেন। অনেকে মনে করেন আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর মনের মধ্যেও একটি দুরভিসন্ধি ছিল। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন উবায়দুল্লাহ আল মাহদীকে সামনে রেখে তিনিই শাসন কাজ। পরিচালন করবেন। ফলে তিনি উবায়দুল্লাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। দূরদর্শী খলিফা মাহদী তা বুঝতে পেরে নিজের ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য তার এক সময়ের মিত্র ও সুহৃদ আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ী ও তার ভাই আবুল আব্বাসকে দরবারে ডেকে আনেন এবং তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেন। এভাবেই একজন অসাধারণ প্রতিভাধর নেতার জীবনাবসান ঘটে। যেমনটি ঘটেছিল আবু মুসলিমের ভাগ্যে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্বাসি আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন আবু মুসলিম নামে আরব বংশোদ্ভূত এক পারসিক মাওয়ালি। ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মার্চ তিনি খোরাসানের রাজধানী মার্ভে বিদ্রোহ ঘোষণা করে খোরাসান দখল করে তিনি সেখানে আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তী সময়ে উমাইয়া শাসক ইয়াজিদকে পরাজিত করে তিনি কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর। তিনি আবুল আব্বাসকে কৃষ্ণবস্ত্রে আচ্ছাদন করে কুফার মসজিদে এনে তাকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে এ সেনাপতি করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন, যা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আল কাইম কত খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন?

উত্তর

আল কাইম ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন।
সাবিয়া বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মুহাম্মদ আল মাকতুমের অনুসারী সাত জন ইমামে যারা বিশ্বাস করে তারাই ইতিহাসে সাবিয়া নামে পরিচিত। শিয়ারা তাদের ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর আস সাদিক পর্যন্ত ইমাম নিয়ে মতপার্থক্য করে না। জাফর আস সাদিক মৃত্যুর পূর্বে স্বীয়পুত্র ইসমাইলকে ইমাম মনোনীত করেন। কিন্তু জাফরের পূর্বে ইসমাইলের মৃত্যু হলে জাফর অপর পুত্র' মুসা আল কাজিমকে ইমাম মনোনীত করেন। ইসমাইলীয়রা মুসা আল কাজিমকে অস্বীকার করে এবং তাদের মতে, ইসমাইলের পর থেকে জাহেরি তথ্য প্রকাশ্য ইমামত শেষ এবং মুহাম্মদ আল মাকতুম হতে বাতেনি তথা গুপ্ত প্রভাবান্বিত হয়েছিল এবং তারা সাত জন ইমামে বিশ্বাসী বলে তাদেরকে সাবিয়া বলা হয়।
উদ্দীপকটি তোমার পঠিত কোন সেনাপতির অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকটি আমার পঠিত সেনাপতি আবু আব্দুল্লাহ আশশিয়ীর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন। ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে আবু আবদুল্লাহ আল হুসায়ন শিয়া মতবাদ প্রচারকার্যের দায়িত্ব নেন। ফাতেমি ইতিহাসে তিনি শিয়ী হিসেবে পরিচিত। আবু আব্দুল্লাহ ৯০১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকায় গমন করে নিজেকে ইমাম মাহদীর অগ্রদূত বলে ঘোষণা দেন। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও অনলবর্ষী বস্তা আবু আবদুল্লাহর যোগ্য পরিচালনা, প্রচারণা ও চরিত্রবলে বার্বাররা কাতামা গোত্রে ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণ করে.। কিন্তু উত্তর আফ্রিকার আগলাবী শাসক জিয়াদাতউল্লাহ ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচারে বাধা দিলে আবু আব্দুল্লাহর সাথে তার সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ মার্চ যুদ্ধে জিয়াদাতটুল্লাহ পরাজিত হয়ে পলায়ন করেন। আগলাবি রাজধানী দখল করে আবু আবদুল্লাহ ইমাম সাঈদ বিন হোসাইনকে রাকাদায় আমন্ত্রণ জানান। আবু আব্দুল্লাহ সাঈদকে নিয়ে কায়রোয়ানে প্রবেশ করেন এবং উবায়দুল্লাহ আল মাহদী উপাধি দিয়ে ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে খলিফা ঘোষণা করেন। সুতরাং বলা যায় যে, ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আবু আব্দুল্লাহর ভূমিকা অপরিসীম।
উক্ত সেনাপতিও কি অনুরূপ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন? যৌক্তিক উত্তর দাও।

উত্তর

সেনাপতি আবু মুসলিমের মৃত্যুর মতোই আবু আব্দুল্লাহ আশ শিয়ীর মৃত্যু সংঘটিত হয়েছিল। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ফাতেমি খিলাফতের প্রথম খলিফা হলেও এ খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর অসামান্য অবদান রয়েছে। আল মাহদি উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের তিনিই যথার্থ দাবিদার। বলা হয় যে, আব্বাসি খিলাফত। প্রতিষ্ঠায় আবু মুসলিম খোরাসানির যে অবদান, তেমনি ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর অবদান। তবে ইতিহাসের নির্মম পরিণতি এই যে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার পরই তারা উভয়ই ক্ষমতাসীন খলিফাদের রোষানলে পতিত হন এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকান্ডের শিকার হন। উল্লেখ্য, খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর পরই উবায়দুল্লাহ আল মাহদী সম্পর্কে অনেকের মতো আশ শিয়ীয়ও। মোহমুক্তি ঘটে। তার মধ্যে প্রত্যাশিত অলৌকিক ক্ষমতা না দেখতে পেয়ে কাতামা গোত্রের লোকজনও তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠেন। অনেকে মনে করেন আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ীর মনের মধ্যেও একটি দুরভিসন্ধি ছিল। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন উবায়দুল্লাহ আল মাহদীকে সামনে রেখে তিনিই শাসন কাজ। পরিচালন করবেন। ফলে তিনি উবায়দুল্লাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। দূরদর্শী খলিফা মাহদী তা বুঝতে পেরে নিজের ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য তার এক সময়ের মিত্র ও সুহৃদ আবু আবদুল্লাহ আশ শিয়ী ও তার ভাই আবুল আব্বাসকে দরবারে ডেকে আনেন এবং তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেন। এভাবেই একজন অসাধারণ প্রতিভাধর নেতার জীবনাবসান ঘটে। যেমনটি ঘটেছিল আবু মুসলিমের ভাগ্যে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ওসমানীয় বংশের প্রথম শাসক ওসমান। ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি। ইয়েনি শহর বিজয় করে সেখানে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। রাজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ওসমান নিকোমেডিয়ার কুয়ুন, হিসার, আক হিসার, কালোলিমনি প্রভৃতি অঞ্চল বিজয় করেন। এছাড়া তিনি মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করেন। আর হ্রসা নগরী অবরোধের জন্য। তিনি সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এভাবে সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক বিন্যাস, সুরক্ষিত রাজধানী স্থাপন করে ওসমান। এ বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত হয়েছেন।
ফাতেমি কারা?

উত্তর

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জামাতা হযরত আলী (রা.) ও কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.)-এর পরবর্তী বংশধরগণ ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত।
দারুল হিকমার কার্যক্রম কীরূপ ছিল?

উত্তর

ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ১০০৫ খ্রি. কায়রোতে বিখ্যাত দারুল হিকমা বা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। এটি বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল। শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা ছাড়াও এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থরাজির সমাবেশ ছিল। দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তি তথায় হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ- আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন।
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন ফাতেমি শাসকের মিল পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসকের সাথে আমার পঠিত ফাতেমি শাসক আল মুইজের মিল পরিলক্ষিত হয়। আল মুইজ ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি জওহর ও সেরকিল্লির নেতৃত্বে মিশরে অভিযান প্রেরণ করেন। তারা আলেকজান্দ্রিয়া ও ফুসতাত অধিকার করে ফুসতাতের উপকন্ঠে আল কাহিরা নামে এক নগরীর পত্তন করেন। যা ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমি খিলাফতের রাজধানী হিসেবে পরিগণিত হয়। ফাতেমি সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত করতে স্পেনের উমাইয়া খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমান উত্তরাঞ্চলে ফ্রাঙ্কদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সুযোগে আল মুইজ ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে সুদক্ষ সেনাপতি আল জওহরকে মরক্কো পুনরুদ্ধারে প্রেরণ করেন। উমাইয়াদের বাধা প্রতিহত করে আল জওহর মরক্কো দখল করেন। পাশাপাশি ওরান ও বুগিয়ার বিদ্রোহ দম্বন করেন। এরপর থেকে উমাইয়া ফাতেমি সংঘর্ষ চলতে থাকে। উমাইয়াগণ ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে একখানা ফাতেমি জাহাজ আটক করলে হাসান বিন আলীর নেতৃত্বে ফাতেমিগণ স্পেনীয় উপকূল আক্রমণ করে, অন্যদিকে উমাইয়াগণ সুবা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলা চালায়। উমাইয়া ফাতেমি সংঘর্ষের সুযোগে গ্রিকরা ৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ক্রিট অধিকার করে নেয়। আল মুইজ ৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি আহমদ ইবনে হাসানের নেতৃত্বে সিসিলি দ্বীপ দখল করেন। মুসলিম শাসনে এ দ্বীপ এতই সমৃদ্ধ হয় যে, সেখানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা চালু হয়। বহু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পালার্মোর সমৃদ্ধ রাজধানী ও শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। মিশরের খারিজি, কারামতি ও অন্যান্য সম্প্রদায় ফাতেমি শাসন মেনে নেয়। জওহর হেজাজ ও সিরিয়া দখল করে মক্কা ও মদিনা নগরীতে মুইজের নামে শুক্রবারের খুৎবা পাঠের রেওয়াজ চালু করেন। সেনাপতি জওহরের অনুরোধে ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে আল-মুইজ ইফ্রিকিয়া হতে মিশরে আগমন করেন। মিশরীয়, সিরীয় ও হেজাজের প্রতিনিধিরা তার আনুগত্য স্বীকার করে নেয়। এভাবে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় ফাতেমি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। উপরিউক্ত আলোচনায় এটি প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ফাতেমি খলিফা আল মুইজের মিল পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের শাসকের মতো উক্ত শাসক তার বংশের অন্যতম। শ্রেষ্ঠ ছিলেন বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসক ওসমানের ন্যায় ফাতেমি খলিফা আল মুইজ ও তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত হয়েছিলেন। ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল মুইজের রাজত্বকাল ফাতেমি খিলাফাতের ইতিহাসে একটি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। তার সুদক্ষ শাসনে এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফাতেমি শক্তি অনেকাংশ বিস্তৃতি লাভ করেছিল। তিনি একজন সমরকুশলী বীর ছিলেন। যার ফলে তিনি একটি দক্ষ সামরিক রাহিনী গড়ে তোলেন। এরপর তিনি রাজ্য বিজয়ে মনোনিবেশ করেন। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে মরক্কো বিজয়। এছাড়াও তিনি কিট, সিসিলি, মিশর প্রভৃতি অঞ্চল বিজয় করেন। তিনি শহর ও বন্দর নির্মাণে বেশ আগ্রহ দেখান। মিশরে আল কাহিরা নগরী নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি বিচারব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলেন। আবু হানিফা মুহাম্মদ বিন নোমানের মতো সুপন্ডিতকে তিনি আইন ও বিচার দপ্তরের পরিচালক নিয়োগ করেন। তাছাড়াও অন্যান্য ধর্মের প্রতি, গুণীজনও সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি উদার ছিলেন। তার প্রধান চিকিৎসক ছিলেন একজন ইহুদি। তিনি রাজস্বব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করেন। এ লক্ষ্যে ইয়াকুব বিন কিল্লিস ও আল-হাসানের সহায়তায় তিনি তার সাম্রাজ্যে একটি অভিনব অর্থব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদ্যমী এবং দুঃসাহসী। তাই তিনি তার সাম্রাজ্যের উন্নতি বিধান করতে পেরেছিলেন। উপরিউক্ত আলোচনায় এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ফাতেমি খলিফা আল মুইজ তার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ওসমানীয় বংশের প্রথম শাসক ওসমান। ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি। ইয়েনি শহর বিজয় করে সেখানে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। রাজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ওসমান নিকোমেডিয়ার কুয়ুন, হিসার, আক হিসার, কালোলিমনি প্রভৃতি অঞ্চল বিজয় করেন। এছাড়া তিনি মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করেন। আর হ্রসা নগরী অবরোধের জন্য। তিনি সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এভাবে সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক বিন্যাস, সুরক্ষিত রাজধানী স্থাপন করে ওসমান। এ বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত হয়েছেন।
ফাতেমি কারা?

উত্তর

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জামাতা হযরত আলী (রা.) ও কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.)-এর পরবর্তী বংশধরগণ ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত।
দারুল হিকমার কার্যক্রম কীরূপ ছিল?

উত্তর

ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ১০০৫ খ্রি. কায়রোতে বিখ্যাত দারুল হিকমা বা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। এটি বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল। শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা ছাড়াও এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থরাজির সমাবেশ ছিল। দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তি তথায় হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ- আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন।
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন ফাতেমি শাসকের মিল পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসকের সাথে আমার পঠিত ফাতেমি শাসক আল মুইজের মিল পরিলক্ষিত হয়। আল মুইজ ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি জওহর ও সেরকিল্লির নেতৃত্বে মিশরে অভিযান প্রেরণ করেন। তারা আলেকজান্দ্রিয়া ও ফুসতাত অধিকার করে ফুসতাতের উপকন্ঠে আল কাহিরা নামে এক নগরীর পত্তন করেন। যা ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমি খিলাফতের রাজধানী হিসেবে পরিগণিত হয়। ফাতেমি সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত করতে স্পেনের উমাইয়া খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমান উত্তরাঞ্চলে ফ্রাঙ্কদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সুযোগে আল মুইজ ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে সুদক্ষ সেনাপতি আল জওহরকে মরক্কো পুনরুদ্ধারে প্রেরণ করেন। উমাইয়াদের বাধা প্রতিহত করে আল জওহর মরক্কো দখল করেন। পাশাপাশি ওরান ও বুগিয়ার বিদ্রোহ দম্বন করেন। এরপর থেকে উমাইয়া ফাতেমি সংঘর্ষ চলতে থাকে। উমাইয়াগণ ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে একখানা ফাতেমি জাহাজ আটক করলে হাসান বিন আলীর নেতৃত্বে ফাতেমিগণ স্পেনীয় উপকূল আক্রমণ করে, অন্যদিকে উমাইয়াগণ সুবা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলা চালায়। উমাইয়া ফাতেমি সংঘর্ষের সুযোগে গ্রিকরা ৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ক্রিট অধিকার করে নেয়। আল মুইজ ৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি আহমদ ইবনে হাসানের নেতৃত্বে সিসিলি দ্বীপ দখল করেন। মুসলিম শাসনে এ দ্বীপ এতই সমৃদ্ধ হয় যে, সেখানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা চালু হয়। বহু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পালার্মোর সমৃদ্ধ রাজধানী ও শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। মিশরের খারিজি, কারামতি ও অন্যান্য সম্প্রদায় ফাতেমি শাসন মেনে নেয়। জওহর হেজাজ ও সিরিয়া দখল করে মক্কা ও মদিনা নগরীতে মুইজের নামে শুক্রবারের খুৎবা পাঠের রেওয়াজ চালু করেন। সেনাপতি জওহরের অনুরোধে ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে আল-মুইজ ইফ্রিকিয়া হতে মিশরে আগমন করেন। মিশরীয়, সিরীয় ও হেজাজের প্রতিনিধিরা তার আনুগত্য স্বীকার করে নেয়। এভাবে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় ফাতেমি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। উপরিউক্ত আলোচনায় এটি প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ফাতেমি খলিফা আল মুইজের মিল পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের শাসকের মতো উক্ত শাসক তার বংশের অন্যতম। শ্রেষ্ঠ ছিলেন বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসক ওসমানের ন্যায় ফাতেমি খলিফা আল মুইজ ও তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত হয়েছিলেন। ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল মুইজের রাজত্বকাল ফাতেমি খিলাফাতের ইতিহাসে একটি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। তার সুদক্ষ শাসনে এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফাতেমি শক্তি অনেকাংশ বিস্তৃতি লাভ করেছিল। তিনি একজন সমরকুশলী বীর ছিলেন। যার ফলে তিনি একটি দক্ষ সামরিক রাহিনী গড়ে তোলেন। এরপর তিনি রাজ্য বিজয়ে মনোনিবেশ করেন। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে মরক্কো বিজয়। এছাড়াও তিনি কিট, সিসিলি, মিশর প্রভৃতি অঞ্চল বিজয় করেন। তিনি শহর ও বন্দর নির্মাণে বেশ আগ্রহ দেখান। মিশরে আল কাহিরা নগরী নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি বিচারব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলেন। আবু হানিফা মুহাম্মদ বিন নোমানের মতো সুপন্ডিতকে তিনি আইন ও বিচার দপ্তরের পরিচালক নিয়োগ করেন। তাছাড়াও অন্যান্য ধর্মের প্রতি, গুণীজনও সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি উদার ছিলেন। তার প্রধান চিকিৎসক ছিলেন একজন ইহুদি। তিনি রাজস্বব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করেন। এ লক্ষ্যে ইয়াকুব বিন কিল্লিস ও আল-হাসানের সহায়তায় তিনি তার সাম্রাজ্যে একটি অভিনব অর্থব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদ্যমী এবং দুঃসাহসী। তাই তিনি তার সাম্রাজ্যের উন্নতি বিধান করতে পেরেছিলেন। উপরিউক্ত আলোচনায় এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ফাতেমি খলিফা আল মুইজ তার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো