Chapter 7 : উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 7 : উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩০৬

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন।
ক
ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ।

উত্তর

ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি।
খ
ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা'আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।" আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে সেনাপতির নির্মিত নগরী মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দিক থেকে সেনাপতি জওহরের সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর মিশর জয়ের পর রাজধানী ফুসতাতের কাছাকাছি আল-কাহিরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিও পোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা তৈরি করা হয়। মুইজের নির্দেশে ১,২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল-মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী। খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দস্তরখানা এবং দক্ষিণে ১৭০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা ৯৭২০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল আজহার। পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। আল মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, "মিশর জয়লাভ করাই আল-মুইজের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল না বরং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন।" ফাতেমি খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের পরামর্শে আল আজহার মসজিদের পাশে ৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। এটি পরবর্তীকালে জগদ্বিখ্যাত বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন। আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন। পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন।
ক
ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ।

উত্তর

ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি।
খ
ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা'আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।" আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে সেনাপতির নির্মিত নগরী মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দিক থেকে সেনাপতি জওহরের সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর মিশর জয়ের পর রাজধানী ফুসতাতের কাছাকাছি আল-কাহিরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিও পোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা তৈরি করা হয়। মুইজের নির্দেশে ১,২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল-মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী। খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দস্তরখানা এবং দক্ষিণে ১৭০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা ৯৭২০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল আজহার। পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। আল মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, "মিশর জয়লাভ করাই আল-মুইজের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল না বরং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন।" ফাতেমি খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের পরামর্শে আল আজহার মসজিদের পাশে ৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। এটি পরবর্তীকালে জগদ্বিখ্যাত বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন। আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন। পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপে চার্লসীয় রাজবংশের গোড়াপত্তন হয়। চার্লসীয়রা ছিল রিচার্ডের অনুসারী ও অনুগামী। উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তা ধর্মীয় প্রচারণা শুরু করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থিরতাপূর্ণ।
ক
ইব্রাহিম বিন আগলাব কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

ইব্রাহিম বিন আগলাব ৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
খ
উত্তর আফ্রিকায় শিয়ারা যে ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়, তা ব্যাখ্যা কর

উত্তর

উত্তর আফ্রিকার শিয়ারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়। এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সমর্থক ছিলেন পারস্যবাসী আব্দুল্লাহ-বিন-মাইমুন। তিনি নবম শতাব্দীর শেষভাগে ফকির, দরবেশ ও বণিক ছদ্মবেশে মুসলিম জাহানের প্রায় সর্বত্র, এমনকি উত্তর আফ্রিকায়ও প্রচারক বা 'দাঈ' পাঠাতে থাকেন। এ প্রচারকদের মূল কাজ ছিল ইসমাইলীয় মতবাদের বীজ বপন করা। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তার ধর্মীয় প্রচারণার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ বিন মাইমুনের ধর্মীয় প্রচারণার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ইবনে হাওসাব এবং হুনওয়ানি নামক দুইজন বিখ্যাত প্রচারক বা দাঈকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করেছিলেন। ইবনে হাওসাবের পরামর্শ ও নির্দেশে আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ৯০০ সালে হজের সময় ইফ্রিকিয়াতে চলে আসেন এবং কাতামা গোত্রের সাথে শিক্ষক বেশে মধুর সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। আবু আব্দুল্লাহ আশ- শিয়ী অতি গোপনে তার প্রচারকার্যের মাধ্যমে কাতামা গোত্রকে আব্বাসি শাসনের বিরুদ্ধে অতিশয় উত্তেজিত করে তোলেন এবং তিনি আরও প্রচার করেন যে শিগগিরই ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে। তিনি আরও প্রচার করেন যে, ধর্মীয় ব্যাপারে অতি জটিল প্রশ্নের সমাধান একমাত্র ইমামগণই দিতে পারেন। এ ধরনের ইমামের সংখ্যা ৭। এদের প্রথম ইমাম হযরত আলী এবং শেষ ইমাম হযরত ইসমাইল। এভাবে কাতামা গোত্রের লোকজন তাকে সাধু-দরবেশ বলে গ্রহণ করে। ইমাম আল মাহদির আগমন হলে তারা তাকে সাহায্য দান করবে বলে আশ্বাস দেয়।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন মন্তব্য কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। উত্তর আফ্রিকায় শাসনকর্তা ছিলেন ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাব।। আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ইতিমধ্যে কাতামাদের সাহায্যে অনেক প্রদেশ দখল করেন এবং সেখানে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার করেন। ৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাবির মৃত্যুর পর তার পুত্র। জিয়াদাত উল্লাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি তার রাজ্যে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুধাবন করে আবু আব্দুল্লাহ একজন তুখোড় ও ঝানু প্রচারক সাইদ ইবনে হোসেনকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করলে জিয়াদাত উল্লাহ তাকে কায়রোয়ানে বন্দি করেন। এ সংবাদে আবু আব্দুল্লাহ কাতামাদের সাহায্য নিয়ে মাজানা সাস ও মেরিদা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করে জিয়াদাত উল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। জিয়াদাত উল্লাহ যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে বাগদাদ গমন করেন এবং রামোলা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। আবু আব্দুল্লাহ জিয়াদাত উল্লাহ আগলাবিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজয়ীর বেশে রাজধানী রাক্কাদায় প্রবেশ করেন এবং নিজ হস্তে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী সাইদ বিন হোসেনকে একটি অশ্বপৃষ্ঠে বসিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন এবং সানন্দে ঘোষণা করতে থাকেন, ইনিই তোমাদের প্রভু (ইমাম)। এরপর ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আবু আব্দুল্লাহ কায়রোয়ান মসজিদে সাইদ বিন হোসেনকে 'মাহদি' বলে ঘোষণা করেন। তৎকালীন সময় থেকে তিনি ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি নাম ধারণ করে মিশরে প্রথম ফাতেমি খলিফা হন এবং জনগণকে ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণের আহ্বান জনান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপে চার্লসীয় রাজবংশের গোড়াপত্তন হয়। চার্লসীয়রা ছিল রিচার্ডের অনুসারী ও অনুগামী। উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তা ধর্মীয় প্রচারণা শুরু করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থিরতাপূর্ণ।
ক
ইব্রাহিম বিন আগলাব কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

ইব্রাহিম বিন আগলাব ৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
খ
উত্তর আফ্রিকায় শিয়ারা যে ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়, তা ব্যাখ্যা কর

উত্তর

উত্তর আফ্রিকার শিয়ারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়। এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সমর্থক ছিলেন পারস্যবাসী আব্দুল্লাহ-বিন-মাইমুন। তিনি নবম শতাব্দীর শেষভাগে ফকির, দরবেশ ও বণিক ছদ্মবেশে মুসলিম জাহানের প্রায় সর্বত্র, এমনকি উত্তর আফ্রিকায়ও প্রচারক বা 'দাঈ' পাঠাতে থাকেন। এ প্রচারকদের মূল কাজ ছিল ইসমাইলীয় মতবাদের বীজ বপন করা। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তার ধর্মীয় প্রচারণার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর ইউরোপের শাসনকর্তার সাথে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ বিন মাইমুনের ধর্মীয় প্রচারণার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ইবনে হাওসাব এবং হুনওয়ানি নামক দুইজন বিখ্যাত প্রচারক বা দাঈকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করেছিলেন। ইবনে হাওসাবের পরামর্শ ও নির্দেশে আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ৯০০ সালে হজের সময় ইফ্রিকিয়াতে চলে আসেন এবং কাতামা গোত্রের সাথে শিক্ষক বেশে মধুর সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। আবু আব্দুল্লাহ আশ- শিয়ী অতি গোপনে তার প্রচারকার্যের মাধ্যমে কাতামা গোত্রকে আব্বাসি শাসনের বিরুদ্ধে অতিশয় উত্তেজিত করে তোলেন এবং তিনি আরও প্রচার করেন যে শিগগিরই ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে। তিনি আরও প্রচার করেন যে, ধর্মীয় ব্যাপারে অতি জটিল প্রশ্নের সমাধান একমাত্র ইমামগণই দিতে পারেন। এ ধরনের ইমামের সংখ্যা ৭। এদের প্রথম ইমাম হযরত আলী এবং শেষ ইমাম হযরত ইসমাইল। এভাবে কাতামা গোত্রের লোকজন তাকে সাধু-দরবেশ বলে গ্রহণ করে। ইমাম আল মাহদির আগমন হলে তারা তাকে সাহায্য দান করবে বলে আশ্বাস দেয়।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন মন্তব্য কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনকর্তার সময়কালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। উত্তর আফ্রিকায় শাসনকর্তা ছিলেন ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাব।। আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী ইতিমধ্যে কাতামাদের সাহায্যে অনেক প্রদেশ দখল করেন এবং সেখানে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার করেন। ৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম বিন আহমদ আগলাবির মৃত্যুর পর তার পুত্র। জিয়াদাত উল্লাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি তার রাজ্যে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুধাবন করে আবু আব্দুল্লাহ একজন তুখোড় ও ঝানু প্রচারক সাইদ ইবনে হোসেনকে উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করলে জিয়াদাত উল্লাহ তাকে কায়রোয়ানে বন্দি করেন। এ সংবাদে আবু আব্দুল্লাহ কাতামাদের সাহায্য নিয়ে মাজানা সাস ও মেরিদা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করে জিয়াদাত উল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। জিয়াদাত উল্লাহ যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে বাগদাদ গমন করেন এবং রামোলা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। আবু আব্দুল্লাহ জিয়াদাত উল্লাহ আগলাবিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজয়ীর বেশে রাজধানী রাক্কাদায় প্রবেশ করেন এবং নিজ হস্তে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী সাইদ বিন হোসেনকে একটি অশ্বপৃষ্ঠে বসিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন এবং সানন্দে ঘোষণা করতে থাকেন, ইনিই তোমাদের প্রভু (ইমাম)। এরপর ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আবু আব্দুল্লাহ কায়রোয়ান মসজিদে সাইদ বিন হোসেনকে 'মাহদি' বলে ঘোষণা করেন। তৎকালীন সময় থেকে তিনি ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি নাম ধারণ করে মিশরে প্রথম ফাতেমি খলিফা হন এবং জনগণকে ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণের আহ্বান জনান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জয়নগরে ধর্মভিত্তিক একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এ বংশকে কণ্টকমুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সকলকে হত্যা করেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকালে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠিত বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
ক
ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক কে?

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক বা খলিফা ছিলেন খলিফা আল আজিদ।
খ
দারুল হিকমা কী?

উত্তর

বাগদাদের 'বায়তুল হিকমা'র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে" ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো 'দারুল হিকমা' বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
গ
উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের চরিত্রকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর চরিত্রকে ইঙ্গিত করেছে। উবায়দুল্লাহ আল মাহদি ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আগলাবি রাজধানী রাজা বা রাকাদায় নবপ্রতিষ্ঠিত ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। আল মনসুরের মতো তিনি আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ফাতেমি খিলাফত কন্টকমুক্ত করেন। তিনি আগলাবি শাসনাধীন সিসিলি, মাল্টা, কর্লিকা প্রভৃতি দ্বীপ দখল করেন এবং সার্ভিনিয়ায় নৌ আক্রমণ পরিচালনা করেন। ৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া দখল করেন। এর ফলে তার রাজ্যসীমা মরক্কো হতে মিশর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। তিনি উমর বিন হাফসুনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে স্পেন জয়ের চেষ্টা করেন। ৯১৬-২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কায়রোয়ানের ১৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মাহদীয়া নগর নামে একটি নগর স্থাপন করে সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তার ঐতিহাসিক রাজত্বকাল ছিল দীর্ঘ ২৬। বছর। তিনি বলিষ্ঠ বৈদেশিক নীতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ফাতেমি বংশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের দীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকাল এবং রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তাই নিঃসন্দেহে। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর শাসনকে ইঙ্গিত করেছে বলা যায়।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকই তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা? মতামত দাও।

উত্তর

আমি মনে করি, উবায়দুল্লাহ আল মাহদীই ছিলেন তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। আল মাহদীর খিলাফতকাল পর্যালোচনা করলে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ছিলেন ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়ায় তিনিই সর্বপ্রথম ফাতেমি খিলাফতের গোড়াপত্তন করেন। অতঃপর ৯০৯ থেকে ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর দক্ষতার সাথে উত্তর আফ্রিকা শাসন করেন এবং ফাতেমি রাজবংশ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ইমাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদী। প্রকৃতই আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর ছিলেন কিনা সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তার সযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে এ খিলাফত বিস্তার লাভ করে। খিলাফতের প্রয়োজনে তিনি ৯১৬-২০ খ্রিস্টাব্দে মাহদিয়া নগর স্থাপন করেন এবং সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। ফাতেমি খিলাফতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা বিদ্রোহগুলো দক্ষতার সাথে দমন এবং রাজ্যসীমার বিস্তার তার রাজবংশকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। মাহদী কর্তৃক ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠিত হবার পর একশ বছরের মধ্যে তার বা তার উত্তরাধিকারীদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়নি শুধুমাত্র তার শাসন দক্ষতার কারণে। বলিষ্ঠ বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ফাতেমি খিলাফতকে স্থায়িত্বদানের জন্য তাকে তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জয়নগরে ধর্মভিত্তিক একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এ বংশকে কণ্টকমুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সকলকে হত্যা করেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকালে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠিত বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
ক
ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক কে?

উত্তর

ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক বা খলিফা ছিলেন খলিফা আল আজিদ।
খ
দারুল হিকমা কী?

উত্তর

বাগদাদের 'বায়তুল হিকমা'র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে" ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো 'দারুল হিকমা' বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
গ
উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের চরিত্রকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসকের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর চরিত্রকে ইঙ্গিত করেছে। উবায়দুল্লাহ আল মাহদি ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আগলাবি রাজধানী রাজা বা রাকাদায় নবপ্রতিষ্ঠিত ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। আল মনসুরের মতো তিনি আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ফাতেমি খিলাফত কন্টকমুক্ত করেন। তিনি আগলাবি শাসনাধীন সিসিলি, মাল্টা, কর্লিকা প্রভৃতি দ্বীপ দখল করেন এবং সার্ভিনিয়ায় নৌ আক্রমণ পরিচালনা করেন। ৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া দখল করেন। এর ফলে তার রাজ্যসীমা মরক্কো হতে মিশর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। তিনি উমর বিন হাফসুনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে স্পেন জয়ের চেষ্টা করেন। ৯১৬-২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কায়রোয়ানের ১৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মাহদীয়া নগর নামে একটি নগর স্থাপন করে সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তার ঐতিহাসিক রাজত্বকাল ছিল দীর্ঘ ২৬। বছর। তিনি বলিষ্ঠ বৈদেশিক নীতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ফাতেমি বংশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের দীর্ঘ ২৬ বছরের রাজত্বকাল এবং রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তাই নিঃসন্দেহে। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর শাসনকে ইঙ্গিত করেছে বলা যায়।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকই তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা? মতামত দাও।

উত্তর

আমি মনে করি, উবায়দুল্লাহ আল মাহদীই ছিলেন তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। আল মাহদীর খিলাফতকাল পর্যালোচনা করলে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ছিলেন ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়ায় তিনিই সর্বপ্রথম ফাতেমি খিলাফতের গোড়াপত্তন করেন। অতঃপর ৯০৯ থেকে ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর দক্ষতার সাথে উত্তর আফ্রিকা শাসন করেন এবং ফাতেমি রাজবংশ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ইমাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদী। প্রকৃতই আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর ছিলেন কিনা সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তার সযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে এ খিলাফত বিস্তার লাভ করে। খিলাফতের প্রয়োজনে তিনি ৯১৬-২০ খ্রিস্টাব্দে মাহদিয়া নগর স্থাপন করেন এবং সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। ফাতেমি খিলাফতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা বিদ্রোহগুলো দক্ষতার সাথে দমন এবং রাজ্যসীমার বিস্তার তার রাজবংশকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। মাহদী কর্তৃক ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠিত হবার পর একশ বছরের মধ্যে তার বা তার উত্তরাধিকারীদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়নি শুধুমাত্র তার শাসন দক্ষতার কারণে। বলিষ্ঠ বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ফাতেমি খিলাফতকে স্থায়িত্বদানের জন্য তাকে তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো