উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন।
আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন।
পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।