উদ্দীপকের উল্লিখিত ছকে ফাতেমি খলিফা আল হাকিমের শাসন বৈশিষ্ট্য (৯৯৬-১০২১ খ্রিষ্টাব্দে) ফুটে উঠেছে।
ফাতেমি খিলাফতের ৬ষ্ঠ খলিফা আবু আলী মনসুর আল-হাকিম বিন আমরিল্লাহ। পিতা আল আজিজের মৃত্যুর পর আল হাকিম ৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। খলিফা আল হাকিম জটিল ও রহস্যময় চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে অনেক ঐতিহাসিকের অভিযোগ। তিনি ৩৯৫ হিজরিতে বেশকিছু খামখেয়ালিপনা বিধিনিষেধ জারি করেন। যেমন- বোরকা ব্যতিরেকে মেয়েদের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধকরণ, সূর্যাস্তের পর গৃহের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধকরণ, কুকুর ও শূকর পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি, সাধারণ লোককে কায়রো প্রবেশে বাধা, জোহরের নামাজ আদায় করায় বাধাদান ইত্যাদি। এছাড়া তিনি ইসলামের প্রথম তিন খলিফাদের প্রতি অভিসম্পাত দেওয়ার প্রথা প্রবর্তন করেন। এর আগে ৩৯০ হিজরিতে খলিফা দিনের পরিবর্তে রাতে হাট-বাজার, অফিস-আদালত চালু রাখার ব্যবস্থা করেন। তিনি সুন্নিদের প্রতি শিয়া মতবাদ গ্রহণের চাপ দেন। এতে সুন্নিরা বিক্ষুব্ধ হয় এবং নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হয়। আল হাকিম ইহুদি ও খ্রিস্টান কর্মচারীদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের নির্দেশ দেন। যারা তার আদেশ অমান্য করত তাদেরকে হত্যা করা হতো। তার ধর্মনীতি পরবর্তীতে ক্রুসেডের পটভূমি রচিত করে। আর খলিফা আল-হাকিমের গৃহীত এসব ব্যবস্থার কারণে ইতিহাসে তিনি একজন খামখেয়ালি শাসক হিসেবে পরিচিত পান।