হ্যাঁ, আমি মনে করি, ফাতেমি-খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মোটকথা শিল্পকলা ও সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব বিকাশ লাভ করে।
ফাতেমি খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসাবিদ্যা ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানচর্চায় বিশেষ অবদান রাখেন ইহুদি চিকিৎসক মুসা-বিন আল- সাজ্জান এবং তার দুই পুত্র। উজির কিল্লিসও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ফাতেমি যুগে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন আল- কিন্দি। এছাড়া আরেকজন উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ছিলেন আল- মুসাব্বিহি। তিনি ২৬০০ পৃষ্ঠায় মিশরের ইতিহাস রচনা করেন। তারা স্থাপত্যশিল্পেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হন। খলিফা আল- মুইজের সময় তাঁর প্রধান সেনাপতি আল আজহার নামে কায়রো শহরে একটি জামে মসজিদ তৈরি করেন। পরবর্তীতে আল আজিজ মসজিদ ক্যাম্পাসের সাথে মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটির মধ্যে একটি হিসেবে খ্যাতিলাভ করে। আল আজহার ছাড়াও আল মুইজ ও পরবর্তী ফাতেমি খলিফাদের আমলে অসংখ্য সৌধ, প্রাসাদ, মসজিদ, মিনার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এগুলোর মধ্যে আল-আকসার, আল-সালেহ এবং ইবন রাজ্জাকের মসজিদগুলো আকর্ষণীয়। চারু ও কারুশিল্পে ফাতেমিগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। হাতির দাঁতের ওপর খচিত। কারুশিল্প বিভিন্ন জাদুঘরে দেখা যায়। মৃৎশিল্পের দৃষ্টান্তও অসংখ্য রয়েছে। বাগদাদের 'বায়তুল হিকমা'র সমতুল্য 'দারুল হিকমা' প্রতিষ্ঠা করা হয়। দারুল হিকমার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ছিল লাইব্রেরি।এখানে প্রায় দুই লাখ বই সংগৃহীত হয়। খলিফা হাকিম জ্যোতির্বিদ্যার প্রতি আগ্রহী থাকায় তিনি একটি মানমন্দিরও প্রতিষ্ঠা করেন। ফাতেমি যুগের তিনটি তোরণ আজও শিল্পসৌন্দর্যের স্বাক্ষর বহন করে আসছে। এগুলো হলো বাব জাবিয়াহ, বাব আল-নাসর ও বাব আল-ফুতুহ।
পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সংস্কৃতি, স্থাপত্যশিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফাতেমি খলিফাগণের বিশাল অবদান ছিল। ইসলামি সভ্যতায় ও সংস্কৃতিতে তাদের অবদান অপরিসীম।